রবীন্দ্রনাথ মন্ডল (দক্ষিণ ২৪ পরগনার ) নামখানার নাদাভাঙার তিন মৎস্যজীবী পাকিস্তানের জেলে আটক থাকার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কাকদ্বীপের বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা। জনপ্রতিনিধিদের সামনে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারগুলি। তিন বছর ধরে প্রিয়জনদের অনিশ্চিত বন্দিদশা ঘিরে জমে থাকা যন্ত্রণা যেন উথলে ওঠে সেই মুহূর্তে।

উল্লেখ্য, তপন মহাপাত্র (৫০), কাশীনাথ মণ্ডল (৫৮) ও দিলীপ বাগ (৪৮) গুজরাটের একটি ট্রলারে কাজ করতে গিয়ে আরব সাগরে মাছ ধরার সময় পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হন। বর্তমানে তাঁরা পাকিস্তানর জেলে বন্দি বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কোনও যোগাযোগ না থাকায় চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে দিন কাটছে পরিবারগুলির।
সাংসদ বাপি হালদার পরিবারগুলিকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করবেন। তাঁর দাবি, এর আগেও নামখানার পাঁচজন শ্রমিক ইরাকে আটকে পড়েছিলেন। সেই সময় তিনি বারবার সংসদে বিষয়টি তুললেও কেন্দ্রীয় সরকার তৎপরতা দেখায়নি। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগ নেওয়ার পরই তাঁরা দেশে ফিরতে পেরেছিলেন। এবারও দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পরিবারের কাছে পাঠিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই কঠিন সময়ে পরিবারগুলির পাশে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, পরিবারগুলির অভিযোগ, নিরুপায় হয়ে তাঁরা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও গিয়েছিলেন। তিনি দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে আর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পরিবারের কথায়, “প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই পাইনি, পরে আর যোগাযোগও করতে পারিনি।” এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
তিন বছর ধরে উপার্জনক্ষম সদস্যদের অনুপস্থিতিতে পরিবারগুলির জীবন কার্যত স্তব্ধ। ঘরে অপেক্ষা করে রয়েছে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানরা। প্রতিটি দিন কাটছে অনিশ্চয়তার মধ্যে।
সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত সমস্যায় ভারত ও পাকিস্তানের মৎস্যজীবীদের আটক হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। মানবিক কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। নামখানার এই তিন পরিবারের চোখ এখন একটাই আশায়—রাজনীতি নয়, কবে শেষ হবে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা, কবে ফিরবেন তাঁদের প্রিয়জনরা ভারতর মাটিতে।


