নিজস্ব সংবাদাতা: দক্ষিণ কলকাতার বাঘাযতীন এলাকায় ‘NSF’ নামে এক অভিনয় প্রশিক্ষণ ও সিনেমা ,সিরিয়ালে সুযোগ পাইয়ে দেওয়া সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংস্থার কর্ণধার নেহা আনসারীর বিরুদ্ধে একাধিক নাবালিকা অভিনেত্রী ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে যৌন নির্যাতন, প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ২০২২ সালে NSF সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর নেহা আশ্বাস দেয় যে, ষ্টার জলসা, জি বাংলা কিংবা বালাজি টেলি ফিল্মস-এর মতো বড় প্রযোজনা সংস্থায় অভিনয়ের সুযোগ করে দেবে। এই প্রলোভন দেখিয়ে নেহা শুধু এক অভিনেত্রীর কাছ থেকেই প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। পাশাপাশি, অফিসে ডেকে নিয়ে গিয়ে বারবার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় ওই নাবালিকা অভিনেত্রীকে। অভিযোগ রয়েছে, নেহার সহযোগী অভিজিৎ ও শহিদুল একাধিকবার এই অত্যাচারে যুক্ত ছিল।
নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, ‘লুক সেট’-এর নামে অফিসের ঘরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে চলত নির্যাতন। দীর্ঘদিন পরে পরিবার জানতে পারে, নেহা আদতে বর্ধমানের বাসিন্দা এবং রূপান্তরিত নারী। স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে চাপ সৃষ্টি করত নেহা ও তার দলবল। নির্যাতিতাদের আপত্তিকর ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
৮ সেপ্টেম্বর হাওড়ার এক নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালত। তবে আদালত চত্বরে নেহার পক্ষে একাধিক উকিল দাঁড় করানো হয় এবং অভিযোগকারীদের পরিবারকে গুন্ডাদের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়। পক্সো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের হলেও নেহা ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে নির্যাতিত পরিবারগুলির মধ্যে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগকারীদের বয়স যেহেতু ১৬ বছরের নিচে, তাই এই মামলা শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (POCSO Act)-এর আওতায় পড়ে। আইনে এটি অ-জামিনযোগ্য অপরাধ। ভুক্তভোগীদের হুমকি দেওয়া ও তাদের ছবি প্রকাশের ভয় দেখানো ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাছাড়া কোটি কোটি টাকার প্রতারণা ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ থাকায় তদন্তে সিবিআই বা সিআইডির হস্তক্ষেপের দাবি উঠছে।
এদিকে, অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন—নেহা একাধিক বাংলা সিনেমার পরিচিত অভিনেতাদের ব্যবহার করে অভিনয়ে আগ্রহী তরুণীদের প্রলোভিত করত। মামলা করেও বর্তমানে বিপাকে পড়েছেন নির্যাতিতারা, কারণ আদালত ও সমাজ দুই দিক থেকেই চাপে রয়েছেন তাঁরা।
নেতাজী নগর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলির আশঙ্কা, প্রভাবশালী সম্পর্কের জেরে নেহা ও তার সহযোগীরা আবারও ছাড় পেয়ে যেতে পারে। তাই তারা চাইছেন, দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
নির্যাতিতাদের আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী বলেন,’ অভিযুক্তরা রীতিমত হুমকী দিচ্ছে নির্যাতিতদের পরিবারকে। নেহা প্রচুর উকিল দাঁড় করাচ্ছে। যারফলে আমি আদালতে কিছু বলতে চাইলেও সম্ভব হচ্ছে না।তবে অভিযোগ গুরুতর। এপর্যন্ত অভিযোগ অনুযায়ী নেহা অভিনয়ে সুযোগ করিয়ে দেওয়ার নাম করে প্রায় ৪০ কোটি টাকা প্রত্যেকের কাছ থেকে তুলেছে। একদিকে যেরকম আর্থিক প্রতারণা, অন্যদিকে POCSO ACT মামলা আর বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনেছে নির্যাতিতরা। এই মামলাতে নেহা সহ বাদবাকি আসামীদের সাজা হবেই।’
অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী জানান,’ নেহা আনসারী যথেষ্ট টাকা রোজগার করেছে এবং প্রচন্ড প্রভাবশালী। যার ফলে নির্যাতিতারা আদালত কক্ষে গেলেও ,তাদের ওপর আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই মামলা ঠিকঠাক মত চালিয়ে নিয়ে গেলে, নেহা আনসারীসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের সাজা হবেই।’


