রবীন্দ্রনাথ মন্ডল ( দক্ষিণ ২৪ পরগনা ) :দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকায় বাংলাদেশি ট্রলার আটক হওয়ার ঘটনায় সামনে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধৃত মৎস্যজীবী রবীন্দ্র দাসের কাছ থেকে দুই দেশের সচিত্র পরিচয়পত্র উদ্ধারের পর প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের কুতুবদিয়া জেলায় হলেও গত প্রায় তিন বছর ধরে তিনি হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার বসন্তপুর এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি মাঝেমধ্যে ভাড়া বাড়ি পরিবর্তন করতেন। বাড়ির মালিক আরতি মাইতির কথায়, কয়েক মাস আগেই নতুন ভাড়াটে হিসেবে সেখানে ওঠেন তিনি। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রায় ছয় মাস আগে বাংলাদেশের নির্বাচনের সময় তিনি নিজ দেশে ফিরে গিয়ে ভোট দেন। এরপর পুনরায় ভারতে প্রবেশের চেষ্টা চলাকালীন ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
রবিবার রাতে ‘এফবি সাগর’ নামে একটি বাংলাদেশি ট্রলার ২৮ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় অংশে প্রবেশ করলে তা আটক করা হয়। ধৃতদের নথি পরীক্ষা করতে গিয়েই রবীন্দ্র দাসের দ্বৈত পরিচয়ের বিষয়টি সামনে আসে। এখন তদন্তকারীদের মূল নজর দুই দেশের পরিচয়পত্র প্রাপ্তির উৎস, দীর্ঘদিন ভারতে বসবাসের নেপথ্য কারণ এবং সীমান্ত পারাপারের সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের দিকে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা কেবল অনুপ্রবেশের প্রশ্ন নয়; উপকূলীয় নজরদারি, ভাড়াটে তথ্য নথিভুক্তকরণ এবং পরিচয়পত্র যাচাই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মৎস্যজীবীদের ট্রলারকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের প্রবণতা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক সহযোগিতামূলক হলেও এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক স্তরে তথ্য বিনিময় ও যৌথ নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে আনছে। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করছে গোটা ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব। ইতিমধ্যে বসন্তপুর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


