শিরোপার লড়াই এখন চরমে, আর ঠিক সেই সময়েই বিস্ফোরক অভিযোগে কাঁপছে সৌদি প্রো লিগ। মাঠের খেলাকে ছাপিয়ে উঠে এসেছে এক বড় প্রশ্ন— সব কিছু কি আগে থেকেই ঠিক করা?
এই ঝড়ের কেন্দ্রে আল নাসের এবং তাদের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সরাসরি নাম না করেও তীব্র ইঙ্গিত দিয়েছেন আল আহলির ফুটবলার ইভান টনি, আর তাতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
আল ফায়হার বিরুদ্ধে ১-১ ড্রয়ের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন টনি। ম্যাচে গোল করলেও তাঁর অভিযোগ, অন্তত দু’টি স্পষ্ট পেনাল্টি দেওয়া হয়নি তাঁদের দলকে। আরও চাঞ্চল্যকর দাবি— রেফারির সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁদের নাকি অন্য প্রতিযোগিতায় মন দিতে বলা হয়!
এই ড্রয়ের ফলে ৬৬ পয়েন্টে আটকে যায় আল আহলি। জিতলে তারা শিরোপার লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারত। অন্যদিকে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আল নাসের, তাও আবার একটি ম্যাচ কম খেলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— এই ব্যবধান কি শুধুই পারফরম্যান্সের?
ক্ষোভে টনির কটাক্ষ,
“আমরা কার দলকে তাড়া করছি, সেটা সবাই জানে। সব কথা বলা যায় না, কিন্তু যা হচ্ছে তা ঠিক নয়।”
মাঠের পর সোশ্যাল মাধ্যমেও বিস্ফোরণ ঘটান তিনি। একাধিক পেনাল্টি আপিলের ভিডিও তুলে ধরে দাবি করেন— এত বড় ভুল ‘দেখতে না পাওয়া’ সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, কোনও না কোনও প্রভাব স্পষ্ট।
এই বিতর্কে আগুনে ঘি ঢেলেছেন তাঁর সতীর্থ গালেনো। তাঁর সোজাসাপ্টা অভিযোগ,
“ট্রফিটা একজনের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাদের ইচ্ছাকৃতভাবে দৌড়ের বাইরে সরানো হচ্ছে।”
ঘটনার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে আল আহলি। তাদের দাবি, রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছে। এমনকি ম্যাচ চলাকালীন রেফারি ও খেলোয়াড়দের কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশের দাবিও তুলেছে ক্লাব।
অন্যদিকে, রোনাল্ডো সমর্থকদের একাংশ এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, হতাশা থেকেই এমন মন্তব্য করা হচ্ছে, আর এতে অযথা একজন কিংবদন্তির নাম জড়ানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, শিরোপার উত্তেজনার মাঝেই এখন সবচেয়ে বড় লড়াইটা মাঠে নয়— বিশ্বাস আর স্বচ্ছতার প্রশ্নে।


