বাঁকুড়ার খাতড়া। এখানে একটি গ্রামের এক নাবালিকা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করে। ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় থানার লছিপুর গ্রামের গণেশ সিংহকে। কিন্ত সংসারের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় বিয়ের কিছুদিন পরই। গণেশ আর তার বাবা মা এর অকথ্য ভাষা এবং অত্যাচারে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে তার জীবন। বাপের বাড়ির সাথেও বন্ধ করে দেওয়া হয় যোগাযোগ। এরই মধ্যে গর্ভবতী হয়ে পড়ে সে। মেয়ের এই অবস্থায় তার সাথে যোগাযোগ করার কাতর আবেদন জানান নাবালিকার বাবা। কিন্তু এতে মন গলেনি গণেশের। বেড়েছে অত্যাচারের পরিমাণ।
গত ২৬.০৪.২০২৪ তারিখে শ্বশুর বাড়ির নজর এড়িয়ে কোনওভাবে বাবার সাথে যোগাযোগ করে মেয়েটি। অত্যাচারের কথা বলতে বলতেই হঠাৎ ওপার থেকে কেটে দেওয়া হয় ফোন। আর মেয়েকে ফোনে পাননি বাবা। তারপর দিন গণেশ শশুর বাড়িতে জানায় যে মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তারপরেই লালগড় থানা থেকে মেয়ের আত্মহত্যার কথা জানতে পারেন বাবা মা। বুঝতে অসুবিধা হয়নি মেয়ের ওপর গণেশ ও তার পরিবারের অকথ্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা, যা সহ্য করতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিল নাবালিকা।
নাবালিকার মা এর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে লালগড় থানা। আত্মহত্যার প্ররোচনা, POCSO সহ একাধিক ধারায় শুরু হয় কেস। তদন্তের ভার দেওয়া হয় SI স্বপন কুমার সেনকে। তদন্ত শেষে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী অফিসার।
শুরু হয় বিচার পর্ব।
কেস শুরু হওয়ার ১ বছরের মধ্যেই আজ ২৯.০৩.২৫ তারিখে ঝাড়গ্রামের দ্বিতীয় ADJ কোর্টের নির্দেশে অভিযুক্ত গণেশ সিং ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত।


