দুর্নীতি থেকে বাঙালি, দমদমে দাঁড়িয়ে ছাব্বিশের সুর বাঁধলেন মোদি

Spread the love

ভারত মাতা কি জয়। বড়রা আমাপ প্রণাম নেবেন। ছোটোরা ভালোবাসা। দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির, কালীঘাটমন্দির, শ্রী শ্রী ১০৮ করুণাময়ী কালীমা মন্দির, দমদম বালাজি হনুমান, রামকৃষ্ণ সেবামন্দির – বিরাজমান দেবীদেবতাদের নমন। কৌশিকী অমাবস্যার দিন। এমন সময়ে কলকাতা এসেছি, যখন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু। কুমোরটুলিতে দুর্গার প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। বড়বাজার থেকে পার্কস্ট্রিট কলকাতা নতুন রঙে সেজে উঠছে। আস্থা আর আনন্দের পর্বের সঙ্গে বিকাশের পর্ব জুড়ে গেলে খুশি দ্বিগুণ।

  • পশ্চিমবঙ্গ জনসংখ্যার দিক থেকে বড় রাজ্যের একটা। যতদিন পশ্চিমবঙ্গের সামর্থ্য বাড়বে না, ততদিন বিকশিত ভারতের যাত্রা সফল হবে না। কারণ বিজেপির কনভিকশন, বিজেপি মানে, বিজেপির শ্রদ্ধা বাংলার ** তবেই বিকশিত ভারতের জয়। ১১ বছর কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সহায়তা করেছে। ন্যাশনাল হাইওয়ের জন্য কংগ্রেসের ইউপিএ সরকার ১০ বছরে দিয়েছে, তার থেকে ৩ গুণ বেশি দেোয়া হয়েছে।
  • কিন্তু বাংলায় বিকাশকারীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এটাই যে বাংলার জন্য যে টাকা আমরা দিচ্ছি রাজ্যসরকারকে সরাসরি দিচ্ছি তার বেশিরভাগই লুঠ হয়ে যায়। দিল্লির টাকা আপনাদের উপর খরচ হয় না। ওই টাকা মহিলাদের জীবন সহজ করার জন্য হয় না। টিএমসি ক্যাডারদের পিছনে খরচ হয়। তাই বাকি রাজ্যের থেকে বিচ্ছিন্ন। এই অবস্থা কয়েকবছর পরে পড়শি অসমেও ছিল। কিন্তু অসমে বিজেপি আসার পরে কল্যাণের টাকা জনতা পাচ্ছে। এই রাজ্যে সব ঘরে জলের কাজ দ্রুত চলছে। আয়ুশমান যোজনায় টাকা। বাংলাতেও জনতা পর্যন্ত সরকারের টাকা পৌঁছতে প্রয়োজন, বাংলায় বিজেপি সরকার হতে হবে। এটা নিশ্চিত টিএমসি যাবে। বিজেপি আসবে। এই মাটি সুরেন্দ্রনাথ, সতীশচন্দ্র, গোষ্ঠপালের। পুনর্জাগরণের কেন্দ্র বাংলা। জাগো ওঠো নবজীবনের গানে নব আলো জ্বালাও প্রাণে প্রাণে। পরিবর্তনের প্রয়োজন।

*15 বছর আগে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মা-মাটি-মানুষে ভরসা করেছিলেন। কিন্তু অবস্থা আগের থেকেও খারাপ। ভবিষ্যৎ খারাপ। মা বোনেদের উপর অত্যাচার বাড়ল। দুর্নীতি অপরাধ তৃণমূলের পরিচয় হয়এ গেল। যতদিন বাংলায় তৃণমূল সরকার থাকবে, ততদিন বাংলার বিকাশ অবরুদ্ধ থাকবে। থেমে থাকবে। তাই আজ বাংলার জনজন বলছে টিএমসি জায়েগি, তবহি অসলি বদলাব আয়েগা। টিএমসি যাবে, তখনই আসল পরিবর্তন আসবে।

⦁ আসছে দিন বাংলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলার দিন সত্যিকারের পরিবার্তন চাই। আসব পরিবর্তন। স্লোগানে নয়, কাজে দেখান। ঘরের ছেলে মেয়েদের বাংলায় চাকরি দিন। পরিবর্তন এমন হবে যা সুরক্ষা দেবে। ঘরবাড়ি জ্বলা থেকে বাঁচাবে। পরিবর্তন যা কৃষককে সম্মান সুবিধা দেবে। ফসলের সঠিক দাম দেবে। পরিবর্তন যেখানে অপরাধী ভ্রষ্টাচারী সরকারে নয়, জেলে থাকবে। এমন পরিবর্তন যেখানে সুশাসন হবে গরিবের থেকে গরিবও সম্মান নিয়ে বাঁচবে। এটা ভাজপা আনতে পারবে। তাই বাংলার ঘরে ঘরে আমাদের এই বার্তা পৌঁছতে হবে, বাংলার কোণা থেকে এটাই আওয়াজ উঠুক – বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই।

⦁ শ্যামাপ্রসাদের 100+ তম জন্ম। ভাজপার জন্ম ডক্টর মুখার্জির আশীর্বাদে। আমরা ওই নীতিতে চললে দেশের ছবি অন্যরকম হোতো। কিন্তু সেসব ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদেশিদের উপর নির্ভর হয়ে গেলাম। আমাদের গর্ব হয়। যে আমরা শ্যামাপ্রসাদের সৈনিক। আমরা মা ভারতীর সেবক। যে স্বপ্ন শ্যামাপ্রসাদ নিয়েছিল তার জন্য এক সৈনিকের মতো জীবন কাটাচ্ছি। দেশকে বাইরে আনতে হবে। আত্মনির্ভরতার মূল মন্ত্র নিয়ে নতুন শীর্ষ ছুঁতে হবে। মেক ইন ইন্ডিয়া আজ একটা বড় বিষয়। যার জন্য আমাদের কলকাতা বাঙ্গালকে মানুষ চেনে। গৌরবশালী অতীত ফেরাতে হবে। তাই বাংলায় একটাই গুঞ্জ টিএমসিকে সরাও। বাংলাকে বাঁচাও।

⦁ অপারেশন সিঁদুর। আমাদের সেনা সীমাপার করে জঙ্গিদের ও তাদের আকাদের খণ্ডহারে বদলে দিয়েছএ। এমন শিক্ষা দিয়েছে, যে পাকিস্তান আজও ঘুমাতে পারে না। ভারতের সফলতার পিছনে বড় শক্তি মেড ইন ইন্ডিয়া। গর্ব হয় – ভারতের সেনাকে শক্তি দিতে বাংলার ভূমিকা অনেক বড়। ইছাপুরে গুলামির দিনে ডিফেন্সের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কংগ্রেস সরকার সেটাকে বরবাদ করে দেয়। আমাদের সেনাকে বিদেশের উপর নির্ভর করে। এখন বিজেপি সরকার নতুন উরজা দিয়েছে। ভারত হাতিয়ার বানাচ্ছে। ছোটো উদ্যোগপতিদের জন্য – দমদম, বারাকপুরে হাজার মানুষ রোজগার পারছে। ইছাপুর ডিফেন্স ফ্যাক্টরি উদাহরণ। ২০২৬ এ ভাজপা সরকার বানান, আমরা শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নের বাংলা বানাব। বন্ধ কারখানা খুলব। নতুন কারখানা তৈরি হবে। দমদম আবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হবে। এটা বিজেপির সংকল্প। বিকশিত বাংলা, মোদির গ্যাারান্টি।

⦁ বিজেপির কাছে রোডম্যাপ আছে বিকশিত বাংলার। কিন্তু তৃণমূল নয়। এ সাক্ষী দমদম। এটা কলকাতার সবচেয়ে ভিড় হওয়া জায়গার এক। এমন শহরের বিকাশের জন্য স্মার্ট সিটি মিশন চলছে কিন্তু টিএমসি এর সঙ্গে জুড়তেও চায় না। যাতে মানুষের অসুবিধা হয়। কিন্তু টিএমসির মিশন বিজেপিকে আটকানো। প্রকল্প আটকানো। বাংলার মানুষকে জিজ্ঞেস করছি, এটা কি ঠিক? এমন রাজনীতিতে কি পশ্চিমবঙ্গের ভালো হবে? তাই আপনাদের আশীর্বাদ চাই। এখানে বিজেপিকে সুযোগ দিয়ে দেখুন। বাংলায় বিজেপি আসবে রেল-মেট্রোর বিস্তার হবে। শিল্প হবে। আইনের শাসন এলেই সম্ভব। ভ্রষ্টাচারে নিয়ন্ত্রণে আসবে। ডবল এঞ্জিন সরকার হবে। বাংলার কাছে ইতিহাস আর সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা। এটা বিকশিত ভারতের অভিযানে প্রেরণা দেবে। বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদি ভাষার দরজা দিয়েছি এটা সৌভাগ্য।

⦁ এখানে যে বিজেপি সরকার হবে—- স্লোগান……মোদি হ্যায়। বিজেপি সরকার হলে হেরিটেজ টুরিজমে শক্তি বাড়ানো হবে। গঙ্গায় ইনল্যান্ড ওয়াটার ওয়ে বা সমুদ্র ক্রুজ টুরিজমের সম্ভাবনাকে ভাজপা সরকার করবে। তাই তরুণরা কাজ পায়। কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সময়ের আগে ভাবে। যে দেশকে বিকশিত বলে, যারা অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে। এই দেশ অনুপ্রবেশকারীদের সহ্য করবে। বের করা উচিত নাকি না? যাওয়া উচিত হ্যাঁ কি না। কে তাড়াতে পারবে। অনুপ্রবেশকারী মুক্ত বাংলা কে গড়বে? মোদি নয়, বিজেপি নয়, আপনাদের একটা ভোট। (আঙুল দেখিয়ে)। একবার ভোট দিন। অনুপ্রবেশকারীরা পালাবে। অনুপ্রবেশকারীরা তরুণদের রোজগার কেড়ে নিচ্ছে, পরিকাঠামোয় চাপ দিচ্ছে, মাবোনদের অত্যাচার করছে, এদের ভারতে থাকতে দেওয়া হবে না। তাই ভারত সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এত বড় অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল-কংগ্রেস সহ সবাই ইন্ডি অ্যালায়েন্স তুষ্টিকরণের আগে মাথানত করেছে। সত্ত্বার লোভে অনুপ্রবেশকে সায় দিচ্ছে। কোথাও কোথাও তো অনুপ্রবেশকারীর আশ্রয় নিচ্ছে। বর্ডার এলাকায় ডেমোগ্রাফি বদলাচ্ছে, যা সামাজিক সঙ্কট তৈরি করছে বাংলায়। কৃষকদের মাটিতে কব্জা, আদিবাসীদের বোকা বানিয়ে জমি দখল। দেশ এটা সহ্য করবে না। থামাতেই হবে। লালকেল্লা থেকে ডেমোগ্রাফিক মিশনের ঘোষণা। নকল কাগজ বানিয়ে থেকে গেছে, তাদের যেতেই হবে।
আর এই কাজ সততার সঙ্গে হোক এর জন্য টিএমসিকেও সরতে হবে।

⦁ ১১ বছর ধরে দেশ ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে লড়ছে। বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। লোকসভায় ভাজপা সরকার অ্যান্টি কোরাপশন বিল এনেছে। বাংলার জনতার সঙ্গে এই বিল নিয়ে কথা বলব। আমাদের দেশে, একজন ছোটো সরকারি কর্মচারী, যদি পুলিশ জেলে ভরে তাহলে ৫০ ঘণ্টায় যদি জেলে থাকে তাহলে চাকরি যাবে অটোমেটিক। সাসপেন্ড। জীবন বরবাদের আইন আছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী যদি জেল যায় তাহলে তার জন্য আইন নেই। অবস্থা দেখুন, আজকাল এরা এতটা নীচে নেমে গেছেন, যে জেল থেকে সরকার চালানোর চেষ্টা করেন। পশ্চিমবঙ্গ দেখেছে এটা। বারবার অনুভব করেছে। তৃণমূলের মন্ত্রী আজও জেলে। ঘরে নোটের পাহাড়। তাও সেই মন্ত্রী আসন ছাড়তে চাননি। রেশন লুঠের আরোপ আরেকমন্ত্রীর। এই মন্ত্রীও জেলে যাওয়ার পরে আসন ছাড়তে চাননি। ভ্রষ্টাচারীদের কি পদে থাকা উচিত? আমরা দেশেছি মুখ্যমন্ত্রী জেলে গিয়েছেন, কিন্তু জেল থেকে সরকার চালিয়েছেন। এটা সংবিধানের, লোকতন্ত্রের অপমান। আপ সংবিধানের অপমান নামবে না মোদি। এসব চলবে না। মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীকেও আইনের আওতায় এনেছি। পিএমও জেলে থাকলে, জামিন না পেলে, পরের দিন তার আসন যাবে। কিন্তু তৃণমূলের লোকজন ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে রেগে গেছেন। আইনের বিরোধিতা করছে। সংসদে তারা এই বিল ছেঁড়ার চেষ্টা করেছেন। এটাই দেখায়, তৃণমূলের রাজনীতি ভ্রষ্টাচারের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে। বাংলা আবার পাওয়ার হাউস হবে ভারতের। বাংলার প্রতি কোণায় একটাই মন্ত্রী – বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই। স্লোগান…


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *