মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনটি ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বেলা ২:২০–এ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। একই সাজা পান প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। দু’জনের যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লা আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইবুনাল জানায়, আন্দোলন দমন, হত্যার নির্দেশ, বিক্ষোভকারীদের উপর অত্যাচার—এই তিন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, হাসিনার ফোনকল-সংক্রান্ত প্রমাণ এআই জেনারেটেড নয়, বরং আসল। ছাত্রদের উপর মারণাস্ত্র প্রয়োগের নির্দেশ তিন রাষ্ট্রনেতাই যৌথভাবে দিয়েছিলেন বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ।
বিচারপতি আরও জানান, আশুলিয়া ও চাঁখারপুলে ছাত্রহত্যার নেপথ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। নিহতদের মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার মতো ঘটনাও পুলিশের কাছে নির্দেশিত হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী স্তর থেকে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বদলাতে চিকিৎসকদের হুমকির ঘটনা আদালতে উঠে আসে।
সকালে রায়দান পর্ব শুরু হয় বেলা ১২টায়। ৪৫৩ পাতার রায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠ করেন বিচারপতি। রায় ঘোষণাকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা জায়গায় উপচে পড়া ভিড়। রায় ঘোষণার পর ধানমন্ডিতে আওয়ামি লিগের কর্মীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভও শুরু হয়।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় অঞ্চলগুলো—বসিরহাট, স্বরূপনগর, হিঙ্গলগঞ্জ, বাদুড়িয়া, হেমনগর—জুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ হলে বিপুল সংখ্যক নেতা–সমর্থক ভারতে ঢুকে পড়তে পারেন বলে সতর্কতা জারি হয়েছে।
ঢাকায় রায় ঘোষণার আগে থেকে পরপর বিস্ফোরণ, মশাল মিছিল, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর নির্দেশ—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে এগোতে থাকা বিক্ষোভকারীদের সেনাবাহিনী ছত্রভঙ্গ করে দেয়।


