অনুপ্রবেশ ইস্যুকেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধান অস্ত্র করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সঙ্গে দুর্নীতি, অপশাসন, নারী নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস—এই সব অভিযোগকে সামনে রেখেই মঙ্গলবার কলকাতায় প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শুধু শনাক্তই নয়, দেশছাড়া করা হবে।
কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, নির্বাচনী স্বার্থে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশে প্রশ্রয় দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। “বিজেপি সরকার গঠন করলে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে। যারা বেআইনি ভাবে ঢুকেছে, তাদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হবে,” বলেন তিনি। শাহের অভিযোগ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না, কারণ রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমি দিচ্ছে না।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে বলেও দাবি করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভয়, দুর্নীতি ও অপশাসনের রাজনীতির জায়গায় সুশাসন চায় বাংলার মানুষ।” তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বামফ্রন্টের থেকেও ভয় ও হিংসার রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে গেছে বর্তমান শাসকদল।
নারী নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে মেয়েদের সন্ধ্যা সাতটার পর বাড়ি ফিরতে বলা হয়। আরজি কর, সন্দেশখালি, দুর্গাপুর, কসবা ল কলেজের মতো ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই রাজ্যে মহিলাদের কোনও নিরাপত্তা নেই। মায়েরা দিন গুনছেন সরকার বদলের জন্য।”
দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে একের পর এক কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। “একজন মন্ত্রীর বাড়ি থেকে ২৭ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। একাধিক মন্ত্রী ও নেতা জেলে গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কি এর জবাব দেবেন?”—প্রশ্ন তাঁর। পাশাপাশি দাবি করেন, রাজ্যে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, ৩০০-র বেশি কর্মী খুন হয়েছেন এবং এখনও হাজার হাজার কর্মী ঘরছাড়া।
অর্থনৈতিক অবনতির চিত্রও তুলে ধরেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, একসময় জিডিপিতে তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলা আজ নেমে এসেছে ২২ নম্বরে। শিল্প রাজ্য ছাড়ছে, সাত হাজারের বেশি সংস্থা চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু না করে রাজ্য সরকার রাজনৈতিক কারণে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করছে বলেও অভিযোগ।
বিজেপির রাজনৈতিক উত্থানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে শাহ বলেন, ২০১৪ সালে যেখানে দলের ভোট শতাংশ ছিল ১৭, সেখানে ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয় ৪১। ২০২১ সালে বিজেপি ৭৭টি আসন জেতে এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। “এই ধারাবাহিক বৃদ্ধিই প্রমাণ করে, ২০২৬ সালে বিজেপিই ক্ষমতায় আসছে,” দাবি তাঁর। সংবাদ সম্মেলনের শেষে রাজ্যের মানুষকে আহ্বান জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল—সবাইকে সুযোগ দিয়ে দেখেছে বাংলা, কিন্তু রাজ্য পিছিয়েই পড়েছে। বিজেপিকে পূর্ণ সমর্থন দিলে উন্নয়ন, সুশাসন ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


