ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল। ভোট মিটতেই সেই কথাই কাজে পরিণত হল। দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে পাঁশকুড়া–ঘাটাল সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার। সাংসদ দেবের উদ্যোগে অবশেষে শুরু হল রাস্তা সংস্কারের কাজ, যা ঘিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকার মানুষ।
লোকসভা ভোটের প্রচারের শেষ দিকে মাইশোরার সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় জনসভা থেকে দেব জানিয়েছিলেন, পাঁশকুড়া থেকে ঘাটাল পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা দ্রুত সংস্কার করা হবে। ভোটের পরে সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি তিনি। কেন্দ্রীয় বরাদ্দে অর্থ মঞ্জুর হওয়ার পরই কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, এই প্রকল্পে মোট ১৯ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশ দিয়েছে কেন্দ্র, বাকি অর্থ এসেছে রাজ্য সরকারের তরফে।
এই রাস্তা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এলাকার অর্থনীতিরও শিরদাঁড়া। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই যাতায়াত করেন পাঁশকুড়া, ঘাটাল, দাসপুর ও মেদিনীপুরের বহু মানুষ। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বাজার—সবকিছুর সঙ্গেই এই রাস্তার প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষাকালে জল জমে যেত, খানাখন্দে দুর্ঘটনা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের অবসান ঘটতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি ছিল, একাধিকবার মেরামত হলেও কাজ টেকসই হয়নি। এবার সম্পূর্ণ নতুন করে রাস্তার কাঠামো মজবুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে পিচ ঢালাইয়ের পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থাও উন্নত করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ফলে বর্ষার সময়েও আর জল জমে থাকার আশঙ্কা থাকবে না।
রাস্তার কাজ শুরুর খবরে খুশি স্থানীয় মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি শোনা যায়, কিন্তু সব কথা বাস্তবে রূপ পায় না। দেব যে নিজের বলা কথা রেখেছেন, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সাংসদ নিজেও জানিয়েছেন, এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করাই তাঁর লক্ষ্য। কাজের গুণমান নিয়ে কোনও আপস করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে শুরু হওয়া এই রাস্তা সংস্কার শেষ হলে যোগাযোগ যেমন সহজ হবে, তেমনই এলাকায় ব্যবসা ও আর্থিক গতিবিধিও আরও চাঙ্গা হবে বলে আশা স্থানীয়দের।


