হুগলি থেকে কর্তব্য পথ—একুশেই বাজিমাত করল বঙ্গকন্যা। প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে দিল্লির কর্তব্য পথে যখন বিশ্বের দরবারে ভারতের শক্তি ও বৈচিত্র্য তুলে ধরা হচ্ছিল, তখন সেই মঞ্চে অনন্য ইতিহাস গড়ে দিল স্বপ্নীলা। মাত্র একুশ বছর বয়সেই প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে সর্বকনিষ্ঠ সঞ্চালক হিসেবে তাঁর কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়ল গোটা বিশ্বে।
হুগলির সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা স্বপ্নীলার যাত্রাপথ মোটেই সহজ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান আর মহাকাশ নিয়ে ছিল অদম্য কৌতূহল। সেই টানেই স্কুলজীবন পেরিয়ে পৌঁছে যান ইসরোর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ছাত্র-গবেষণা প্রকল্পে। ‘খুদে বিজ্ঞানী’ হিসেবেই পরিচিতি তৈরি হয় তাঁর। কিন্তু স্বপ্নীলা থেমে থাকেননি ল্যাবরেটরির চার দেওয়ালের মধ্যে। বক্তৃতা, উপস্থাপনা আর ভাষার প্রতি আলাদা ভালবাসা তাঁকে টেনে নিয়ে যায় মাইক্রোফোনের সামনে।
এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসে সেই স্বপ্নই বাস্তব হল। কর্তব্য পথে দাঁড়িয়ে দেশের সামরিক শক্তি, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের কাহিনি যেভাবে সাবলীল কণ্ঠে তুলে ধরলেন স্বপ্নীলা, তাতে মুগ্ধ দর্শক থেকে আমন্ত্রিত অতিথিরা। আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ, স্পষ্ট ভাষা আর পরিমিত আবেগ—সব মিলিয়ে তাঁর সঞ্চালনা আলাদা করে নজর কাড়ে।
এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, গর্বের মুহূর্ত হুগলি তথা বাংলার জন্যও। একুশের স্বপ্নীলার হাত ধরে যেন আরও একবার প্রমাণ হল—মেধা আর অধ্যবসায় থাকলে জেলা শহর বা বয়স কোনও বাধা নয়। ইসরোর খুদে বিজ্ঞানী থেকে কর্তব্য পথের সর্বকনিষ্ঠ সঞ্চালক—স্বপ্নীলার এই যাত্রা আজ অনুপ্রেরণা হয়ে রইল অগণিত তরুণ-তরুণীর কাছে।


