রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হল রাজ্য সরকারের। একের পর এক চিঠি পাঠিয়েও কোনও উত্তর না পাওয়ায় এবার সরাসরি নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নতুন করে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে সাক্ষাতের ঠিক আগেই লেখা এই চিঠিতে তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ছক কষা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির মূল বিষয় ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ নিয়োগ। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন এমন একটি পদ তৈরি করেছে যার কোনও সাংবিধানিক বা আইনি ভিত্তি নেই। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা যাচাইয়ের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে ERO ও AERO-দের হাতে দেওয়া আছে। সেই দায়িত্বে হস্তক্ষেপ করতে নতুন করে নজরদারির নামে মাইক্রো অবজার্ভার বসানো আইনসম্মত নয়।
শুক্রবার কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে কাউন্সিলর ও বিএলএ-২দের সঙ্গে বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, যেহেতু মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের কোনও বিধি নেই, তাই তাঁদের নির্দেশ মানার প্রশ্নই ওঠে না।
চিঠিতে ১৯৫০ সালের রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপলস অ্যাক্ট এবং ১৯৬০ সালের রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেকটরস রুলের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, আইন সংশোধন না হলে নির্বাচন কমিশনের নতুন কোনও পদ তৈরির অধিকার নেই। তাঁর অভিযোগ, অস্পষ্ট দায়িত্বসম্পন্ন এই মাইক্রো অবজার্ভারদের মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।


