কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ ঘোষণার আগে দেশজুড়ে চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত করদাতাদের মধ্যে আয়কর নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে। লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি, আবাসন খরচ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষের মাসের শেষে সঞ্চয় কমছে। সেই বাস্তবতাতেই আসন্ন বাজেটে আয়কর কাঠামোয় কিছু বড়সড় স্বস্তির আশা করছেন বেতনভুক শ্রেণির মানুষ।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বৃদ্ধি নিয়ে। বর্তমানে নতুন কর ব্যবস্থায় এই ছাড় থাকলেও বহু করদাতার দাবি, কাজের সঙ্গে যুক্ত নিত্য খরচের কথা মাথায় রেখে এই অঙ্ক আরও বাড়ানো হোক। এতে মাসিক হাতে পাওয়া টাকার পরিমাণ কিছুটা হলেও বাড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এর পাশাপাশি আয়কর স্ল্যাব পুনর্বিন্যাসের দাবিও জোরালো। মধ্যম আয়ের করদাতারা চান, উচ্চ করের আওতায় যাওয়ার সীমা আরও বাড়ুক, যাতে তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের উপর করের চাপ কিছুটা কমে। বিশেষ করে নতুন কর ব্যবস্থায় আরও বাস্তবসম্মত স্ল্যাব কাঠামোর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন অনেকেই।
পুরনো কর ব্যবস্থার জনপ্রিয় ছাড়গুলির ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা রয়েছে। সেকশন ৮০সি-র বিনিয়োগ সীমা বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে সেই সীমা বাড়ানোর দাবি নতুন করে উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়ির ঋণের সুদের উপর করছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধির কথাও আলোচনায় রয়েছে, যা মধ্যবিত্ত গৃহস্থদের বড় স্বস্তি দিতে পারে।
কর ফাইলিং প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয়টিও বাজেট থেকে প্রত্যাশিত। জটিল নিয়ম, টিডিএস সমস্যা ও রিফান্ডে দেরি—এই সব ঝক্কি কমলে করদাতাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন চাকরিজীবীরা।
সব মিলিয়ে বাজেট ২০২৬-এর দিকে তাকিয়ে মধ্যবিত্তের একটাই আশা—আয়কর নীতিতে বাস্তবসম্মত পরিবর্তনের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে খানিকটা আর্থিক স্বস্তি।


