ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী হওয়ার আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি আগেই। কোন কোন কেন্দ্র থেকে লড়তে চান, তাও স্পষ্ট করে লিখে দিয়েছেন জীবনপঞ্জিতে। কিন্তু সেই আবেদন নিয়েই গেরুয়া শিবিরে শুরু হয়েছে চাপা আলোচনা। আর তার মাঝেই দলকে নিয়ে প্রকাশ্যেই বেসুরো সুর তুললেন রিঙ্কু মজুমদার।
শুক্রবার মেদিনীপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর নতুন কার্যালয় উদ্বোধনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই দলীয় কাঠামো নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন রিঙ্কু। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দল করেও তিনি প্রাপ্য গুরুত্ব পাননি।
রিঙ্কুর কথায়, “এত বছর ধরে দল করছি, আমাকে একটা মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়নি। আমি তো দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। কিন্তু এমন কর্মীদের দল সামনে এগিয়ে দিতে চায় না। কৌটোয় ঢাকনা দিয়ে চেপে রাখার মতো করে রাখা হয়।”
আসন্ন নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টি-র দপ্তরে জমা পড়ছে একের পর এক বায়োডাটা। প্রার্থী হওয়ার আশায় অনেকেই নিজেদের সিভি দিচ্ছেন। সূত্রের খবর, গত ৩১ জানুয়ারি নিজের জীবনপঞ্জি জমা দেন রিঙ্কু মজুমদার। সেদিন সন্ধ্যায় সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে একজনের হাতে সেই কাগজ তুলে দেন তিনি।
তবে সেই অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি বলেই দাবি তাঁর। রিঙ্কুর বক্তব্য, তিনি সাধারণত রাজ্য দপ্তরে যান না, কারণ সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় এবং একাধিক নিয়ম মানতে হয়। কিন্তু তাঁকে জানানো হয়েছিল, গেলে নাকি রাজ্য সভাপতি তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন। সেই আশাতেই কয়েকজনকে নিয়ে তিনি দপ্তরে যান।
রিঙ্কুর অভিযোগ, সেদিন সভাপতির সঙ্গে দেখা হয়নি। আপ্ত সহায়ক পরদিন আসতে বলেন। পরদিনও গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হলেও শেষমেশ জানানো হয়, দেখা সম্ভব নয়। এতে তিনি বিরক্ত হন এবং পরিচিত একজনের মাধ্যমে নিজের সিভি উপরে পাঠিয়ে দেন।
দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই কথা বলছেন বলে দাবি করলেও, রিঙ্কুর এই মন্তব্য ঘিরে বিজেপির অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ কি আরও বাড়বে? নাকি শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দেবে— এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
মেদিনীপুরে বিস্ফোরক রিঙ্কু! প্রার্থী হওয়ার আবেদন ঘিরে বিজেপির অন্দরে চাপা অসন্তোষ


