দলবদল মানেই টিকিটের লোভ—এই চেনা অভিযোগকে সামনে রেখেই রাজনীতিতে নিজের পথ আলাদা করতে চেয়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকতেই সেই দাবিই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “প্রার্থী হওয়ার জন্য আমি দলবদল করিনি।”
আমতলার পার্টি অফিসে দাঁড়িয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময়ই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন প্রতীক। মঙ্গলবার কালীঘাট থেকে ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় সেই অবস্থানই যেন বাস্তবের মাটিতে প্রতিষ্ঠা পেল।
সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা সরাসরি—“অনেকে বলেছিল আমি প্রার্থী হব। আজ প্রমাণ হয়ে গেল, আমি প্রার্থী হওয়ার জন্য দলবদল করিনি।” কথার মধ্যে কোনও আক্ষেপ নেই, বরং রয়েছে আত্মবিশ্বাসের দৃঢ় সুর।
দলের প্রতি আনুগত্যও স্পষ্ট তাঁর কথায়। “আমার একটাই কথা ছিল—আমি প্রার্থী হব না। দল আমার সেই কথা রেখেছে,”—বলেন প্রতীক। একই সঙ্গে দলের কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সংগঠনের কাজকর্মে সক্রিয় এই তরুণ নেতা। ধর্মতলার আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখা গিয়েছে তাঁকে। ভোটের আগে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেভাবেই কাজ করবেন—কোনও শর্ত বা ব্যক্তিগত দাবি ছাড়াই।
প্রার্থী তালিকা নিয়েও তাঁর মূল্যায়ন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতীকের মতে, এই তালিকায় অভিজ্ঞতা, সংগঠন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্বের সঠিক মেলবন্ধন রয়েছে। “এটা শুধু তালিকা নয়, এটা একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পরিকল্পনা,”—মনে করেন তিনি।
এবারের প্রার্থী তালিকা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। অতীতে তারকা প্রার্থীদের নিয়ে চমক থাকলেও, এবার সেই পথে হাঁটেনি তৃণমূল। নানা জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভরসা রাখা হয়েছে পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ মুখের উপরেই।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—চমক নয়, পারফরম্যান্সই এবার আসল মাপকাঠি। আর সেই প্রেক্ষাপটে প্রতীক উর রহমানের প্রতিক্রিয়া যেন আরও বড় রাজনৈতিক ইঙ্গিত—পদ নয়, অবস্থানই আসল শক্তি।


