মহাকুম্ভ থেকে রাতারাতি ভাইরাল হওয়া এক কিশোরী, তারপর দক্ষিণী ছবিতে সুযোগ—স্বপ্নের মতো বদলে গিয়েছিল মোনালিসা ভোঁসলের জীবন। কিন্তু সেই স্বপ্নই এখন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত। পরিবারের অমতে মুসলিম প্রেমিক ফরমান খানের সঙ্গে বিয়ে করায় তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তিনি।
প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে পাথরের মালা বিক্রি করতে গিয়ে নজরে আসেন এই ‘ভাইরাল গার্ল’। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলার পর দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকেও ডাক আসে খারগাঁওয়ের এই তরুণীর কাছে। শুটিংয়ের সূত্রেই জীবনের মোড় ঘোরে আরও একবার—পরিচয় হয় ফরমান খানের সঙ্গে, যা পরে প্রেমে পরিণত হয়।
সম্প্রতি কেরলের তিরুবনন্তপুরমে সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে বিয়ে করেন তাঁরা। হিন্দু রীতিতে মন্দিরে মালাবদল ও সাতপাক ঘুরে বিবাহ সম্পন্ন হয়। জানা গিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপেই এই বিয়ে সম্ভব হয়, এমনকি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন মন্ত্রীও।
কিন্তু বিয়ের খবর সামনে আসতেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। মোনালিসার পরিবার ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগ তোলে। আর তার জেরেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে।
এবার নিজেই সামনে এসে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মোনালিসা। তাঁর দাবি, প্রকাশ্যেই তাঁদের খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমাদের প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে। আমি এই ভিডিওটি একটি চিঠির সঙ্গে সবাইকে পাঠাচ্ছি। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন।”
নিরাপত্তার খোঁজে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন নবদম্পতি। তবে প্রশ্ন উঠছে—একজন সাধারণ বিক্রেতা থেকে ভাইরাল তারকা হয়ে ওঠা মেয়ের জীবনে কি এই বিতর্কই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা? নাকি সমাজের চাপ আর ধর্মীয় বিভাজনই ছিনিয়ে নিচ্ছে তাঁদের স্বাভাবিক জীবন?


