পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ তৈলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর ফলে বিশ্বের বহু দেশের মতো জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতেও। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তাঁর দাবি, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে। সেই সব জাহাজে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিকও রয়েছেন, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ। পাশাপাশি তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি প্রবাসী ভারতীয় বসবাস করেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এর আগেও সোমবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি স্বীকার করেছিলেন, ভারতের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে আমদানি করা হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবু যাতে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা না হয়, সে জন্য সরকার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কোনও একটিমাত্র উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে চায় না। সেই কারণেই তেল আমদানির উৎস বাড়ানো হয়েছে। আগে ভারত ২৭টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি ও এলপিজি আমদানি করত। বর্তমানে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১টি দেশে পৌঁছেছে।
এছাড়াও দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর পাশাপাশি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস (পিএনজি)-এর ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
রাজ্যসভায় বক্তব্যের শেষে মোদি বলেন, এই কঠিন সময়েই দেশবাসীর একজোট হয়ে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।


