পানিহাটির ভোটের ময়দান গরম হতে শুরু করেছে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই। বুধবার তৃতীয় দফার তালিকা প্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি, যেখানে ১৯ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। সেই তালিকাতেই জায়গা করে নেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই প্রচারের প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে দেবনাথ পরিবার।
প্রার্থী হয়েই তীব্র বার্তা দিয়েছেন রত্না দেবনাথ। তাঁর সাফ হুঁশিয়ারি, “আমি জিতলে পানিহাটি জিতবে, আমি হারলে পানিহাটি হারবে। তৃণমূলের মূল উপড়ে ফেলব।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ভোটের লড়াইকে সরাসরি রাজনৈতিক সম্মান ও অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছেন তিনি।
অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই দলের নেতা-কর্মীরা বাড়িতে আসছেন, চলছে দফায় দফায় আলোচনা। বৃহস্পতিবার থেকেই পূর্ণ শক্তিতে প্রচার শুরু হবে বলেও জানান তিনি। নারী সুরক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা—এই তিন ইস্যুকেই সামনে রেখে ভোটের লড়াইয়ে নামছে দেবনাথ পরিবার।
এই প্রার্থীপদ ঘিরে আবেগও কম নয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় যে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় জনসমর্থন গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। সেই ঘটনার পর রাতের পর রাত পথে নেমে প্রতিবাদে সামিল হয় সাধারণ মানুষ—যা কার্যত রাজ্যের অন্যতম বড় আন্দোলনে পরিণত হয়।
পানিহাটিতে লড়াই এবার শুধু দুই দলের নয়, ত্রিমুখী। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-র প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। ফলে একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে সিপিএম, আর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস—এই তিন শক্তির সংঘর্ষে জমে উঠেছে পানিহাটির লড়াই।
ভোটের ময়দানে এখন নজর একটাই—রত্না দেবনাথের আবেগঘন প্রচার কি বাস্তবে ভোটে পরিণত হবে, নাকি রাজনৈতিক সমীকরণই শেষ কথা বলবে।


