প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিটেন সফর ঘিরে নতুন ইতিহাস তৈরি হল। বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে অবশেষে স্বাক্ষর করল ভারত ও ব্রিটেন। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন দুই রাষ্ট্রনেতা।
দু’দিনের ব্রিটেন সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, যার কৌশলগত গুরুত্ব বিশাল। সফরে তিনি ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন দিশা দেখাবে।
এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই দরকষাকষি চলছিল তিনটি মূল বিষয়ে— অ্যালকোহল ও মোটরগাড়ির উপর ভারতের আরোপিত আমদানি শুল্ক, এবং ভারতীয় কর্মীদের ব্রিটেনে যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি। যদিও শুল্ক ইস্যুতে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে ভারত, ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রে বরাবরই ছিল কঠোর অবস্থানে।
এই আলোচনার সূত্রপাত ২০২১ সালে বরিস জনসনের আমলে হলেও, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যে তা বারবার থমকে গিয়েছিল। বিশেষ করে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যানের মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর ঋষি সুনাকের ক্ষমতা গ্রহণ ও ২০২৩-এ জি-২০ সম্মেলনে মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পর নতুন করে চুক্তি বাস্তবায়নের আশার সঞ্চার হয়। তবে চূড়ান্ত সমাধান আসে কিয়ের স্টার্মারের লেবার পার্টি সরকার গঠনের পর। তাঁর নেতৃত্বেই বহু প্রতীক্ষিত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথ সুগম হয়। স্টার্মার আগেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এই ঐতিহাসিক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদির পরবর্তী গন্তব্য মালদ্বীপ।


