মন্ত্রিসভার অনুমোদন, রাজ্যে তৈরি হবে ‘দুর্গা অঙ্গন’

Spread the love

একুশের জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ‘দুর্গা অঙ্গন’ তৈরির ঘোষণা করেছিলেন, সেই সিদ্ধান্তে সোমবার আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দিল রাজ্যের মন্ত্রিসভা। নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানানো হয়, রাজ্যের পর্যটন দপ্তর এবং হিডকো যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এর লক্ষ্য — বাংলার দুর্গাপুজোকে ঘিরে একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা।

মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, ইউনেস্কো ইতিমধ্যেই বাংলার দুর্গাপুজোকে হেরিটেজের স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই সম্মানকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দিতেই মুখ্যমন্ত্রী ‘দুর্গা অঙ্গন’-এর ভাবনা এনেছেন। এই প্রকল্পের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে, যদিও ট্রাস্টের সদস্যদের নাম এখনও নির্ধারিত হয়নি। দিঘার জগন্নাথধামের মতোই ‘দুর্গা অঙ্গন’কে রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে ক্রমশ পুণ্যার্থীর ভিড় বেড়েছে, যদিও বিরোধী বিজেপি এই উদ্যোগ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামি বছরের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণা প্রতীকী বার্তা বহন করছে। বিশেষত, গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বঙ্গ সফরে তাঁর মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ না শোনা গেলেও দুর্গা ও কালীর নাম উচ্চারণ করা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়। তিন দিন পর একুশের জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দেন।

যদিও ‘দুর্গা অঙ্গন’ কোথায় গড়ে তোলা হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সূত্রের খবর, কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকল্পের অবস্থান ও নকশা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। পর্যটন দপ্তরের আশা, এই উদ্যোগ শুধু বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরবে না, বরং রাজ্যের পর্যটন শিল্পকেও আরও সমৃদ্ধ করবে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *