ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৮২তম আসরে অরিজন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতলেন নবাগত বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক অনুপূর্ণা রায়। তাঁর ছবি “Songs of Forgotten Trees” এই সম্মান এনে দিয়েছে তাঁকে। আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট জুলিয়া ডুকর্ন মঞ্চ থেকে পুরস্কারের ঘোষণা করেন। সাদা-লাল পাড়ের শাড়ি পরে পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগে ভেসে গিয়ে অনুপূর্ণা এই জয়কে ‘সুরিয়াল’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি পুরস্কার উৎসর্গ করেন নিজের দেশ, জন্মস্থান পুরুলিয়া এবং একই সঙ্গে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত প্যালেস্টাইনের মানুষের উদ্দেশে।
অনুপূর্ণার এই পথচলা সহজ ছিল না। শুরুর দিকে পরিবারের তরফে আপত্তি ছিল প্রবল। কুলটি থেকে ফোনে তাঁর মা মনীষা রায় জানিয়েছেন, মেয়ের লেখালিখির ঝোঁক ছিল ছোটবেলা থেকেই, কিন্তু সিনেমার জগতে আসা নিয়ে পরিবার আশ্বস্ত ছিল না। বাবা চাইতেন মেয়ে স্থায়ী চাকরি করুক, বারবার বলতেন, সত্যজিৎ রায় তো আর হওয়া যাবে না। কিন্তু অনুপূর্ণা একরোখা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সিনেমাই তাঁর জীবন। তাই দিল্লিতে মাস কমিউনিকেশন পড়ার পর কলসেন্টার ও আইটি সেলস এক্সিকিউটিভের চাকরি ছাড়লেও তিনি লেগে ছিলেন সিনেমার স্বপ্নে। তাঁর প্রথম শর্ট ফিল্ম “Run to the River” প্রশংসা কুড়িয়েছিল, আর এবার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি তাঁকে পৌঁছে দিল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির শীর্ষে।
পুরুলিয়ার নারায়ণপুর গ্রামের মেয়ে অনুপূর্ণার ছবিতে দেখা গিয়েছে দুই অভিবাসী তরুণীর মুম্বই শহরে টিকে থাকার লড়াই, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার গল্প। অনুপূর্ণা জানিয়েছেন, স্কুলজীবনের এক বান্ধবীর অকাল বিয়ের অভিজ্ঞতা থেকেই ছবির মূল অনুপ্রেরণা এসেছে। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন বিবাংশু রাই, রোমিল মোদি এবং রঞ্জন সিং। আর পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব—অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী, অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী, পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী ও বৌদ্ধায়ন মুখোপাধ্যায়—সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনুপূর্ণাকে। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই বিরল সম্মান পাওয়ায় অনুপূর্ণা রায় আজ শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের গর্ব।


