নয়াদিল্লির পর এবার আসানসোল। ট্রেনে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি। তা ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা আসানসোল রেলস্টেশনে। যদিও ভিড় সামলাতে সতর্ক রেল কর্তৃপক্ষ। বারবার মাইকিং করে বলা হচ্ছে অযথা হুড়োহুড়ি করবেন না। তা সত্ত্বেও ভিড় সামলাতে নাজেহাল রেল পুলিশ।
রবিবার আসানসোল স্টেশনে বিশেষ সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেয় রেল কর্তৃপক্ষ। নয়া দিল্লি স্টেশনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আসানসোল স্টেশন এর বাইরে একটি বিশেষ সহায়তা ক্যাম্প খোলা হয়। যাত্রীদের যাতায়াত দড়ি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টাও করা হয়। তবুও স্টেশনে আসানসোল মুম্বাই মেল ভায়া প্রয়াগরাজ আসা মাত্রই বদলে যায় স্টেশনের পরিস্থিতি। একের পর এক যাত্রীরা দড়ি ছিঁড়ে ট্রেনের দিকে এগোতে থাকেন। বেশ হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। রেল পুলিশ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। হুড়োহুড়ি চোটে বেশকিছু জন পড়ে যান। অল্প বিস্তর চোট অনেকেই পেয়েছেন।
এরপরেই রেল চত্বরে মাইকিং শুরু হয়ে যায় রেল পুলিশের পক্ষ থেকে। যাত্রীদের অযথা তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে না ওঠার কথা বলা হয়। যদিও সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে প্রাণহানির কোন ঘটনা ঘটেনি।
প্রসঙ্গত শনিবার কুম্ভ মেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে লোক জড়ো হয় নয়াদিল্লি রেল স্টেশনে। একাধিক ট্রেন নয়া দিল্লি স্টেশন থেকে সরাসরি কুম্ভ মেলায় যাওয়ার কথা। না হলে কুম্ভ হয়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা। সেই ট্রেন গুলির আশায় কয়েক হাজার মানুষ অপেক্ষা করছিলেন। সূত্রের দাবি, গুজব ছড়িয়ে পড়ে স্বতন্ত্রতা সেনানী এক্সপ্রেস এবং ভুবনেশ্বর রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি বাতিল হয়েছে। এর মধ্যেই মহা কুম্ভের জন্য স্পেশাল ট্রেন প্রয়াগ রাজ এক্সপ্রেস ১৪ নম্বর প্লাটফর্মে ঢুকে পড়ে। সেই ট্রেনটিকে আসতে দেখে বাকি দুই ট্রেনের যাত্রীরাও ১৪ নম্বর প্লাটফর্মের দিকে ছুটতে থাকে। পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। মৃতদের পরিবারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। পরিকল্পনার অভাবকেই তিনি দায়ী করেছেন।


