তিন বছর আগে থমকে গিয়েছিল শর্মা পরিবারের হাসি। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২২ সালে চলে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। সেই শূন্যতার মাঝেই এ বার ধীরে ধীরে নতুন আলো। ৩ ফেব্রুয়ারি আইনি বিয়ে সারলেন ঐন্দ্রিলার দিদি ঐশ্বর্যা শর্মা। ঘরোয়া অনুষ্ঠানে হল আংটিবদলও। পরিবারের কাছের মানুষদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই বিশেষ দিন।
এই বিয়েতে আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ঐন্দ্রিলার স্মৃতি। বোনের ছবির সামনে দাঁড়িয়েই আইনি বিয়ে সারেন ঐশ্বর্যা। যেন না বলেই জানিয়ে দেওয়া—এই আনন্দের দিনেও পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন ঐন্দ্রিলা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর একদা প্রেমিক অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী। সাদা শার্ট ও ডেনিমে সাদামাটা সাজেই তিনি ঢোকেন অনুষ্ঠানকক্ষে। তাঁকে দেখেই যেন উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে ঐন্দ্রিলার পোষ্যেরা—আবেগের দৃশ্য ছুঁয়ে যায় সকলকে।
ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় নিজেকে আড়ালেই রেখেছিলেন ঐশ্বর্যা। ধীরে ধীরে জীবনে ফেরার পথে হাঁটছেন সব্যসাচীও—কাজে ফিরেছেন, স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে জীবন। বড় মেয়ের আনন্দের দিনে অতীতের যন্ত্রণায় ফিরতে চাননি মা শিখা শর্মা। তাঁর কথায়, “আমি জানি, ও আমাদের চারপাশেই আছে। আজ আমার বড় মেয়ের জীবনের খুব বড় দিন। আমি চাই ও আর দিব্যজিৎ এ ভাবেই সুখে থাকুক।”
অনুষ্ঠানের এক কোণে দাঁড়িয়ে আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায় সব্যসাচীকেও। পরিচয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই মৃদু হেসে বলেন, “মনে থাকবে না? বহরমপুরেই তো আলাপ!”—এক মুহূর্তে হালকা হয়ে ওঠে পরিবেশ।
পেশায় চিকিৎসক ঐশ্বর্যা শর্মা বর্তমানে ইএনটি বিষয়ে এমএস করছেন। তাঁর স্বামী দিব্যজিৎ দত্তও একই পেশার মানুষ। বহুদিনের পরিচয়, ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে কথাবার্তার সূত্র ধরেই গড়ে ওঠে সম্পর্ক। অবশেষে আইনি বিয়ের মাধ্যমে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন তাঁরা।
শোক, স্মৃতি আর নতুন সুখ—সব মিলিয়েই শর্মা পরিবারের এই দিনটা হয়ে রইল আলাদা।


