আসানসোলের সংশোধনাগারে প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন হল। কারাগারের অন্ধকারে আলো ফুটিয়ে তুললেন উমা। বন্দিরা এবার পুজোর আনন্দে উদ্বেল—যেমন আনন্দের মুহূর্ত তাদের আগে দেখা হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যে পুরো আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলের ভিতর-বাইরে এখন ঝলমল করছে প্রদীপ ও আলোর খেলা। ষষ্ঠীতেই দেবী বোধন সম্পন্ন হয়েছে।
পুরোহিতের দায়িত্বে রয়েছেন একজন অভিজ্ঞ পুরোহিত, আর ঢাক, প্রদীপ, আলপনা—সবকিছুতে অংশ নিচ্ছেন বন্দিরা। বিশেষ করে মহিলা আবাসিকরা আলপনা ও প্রদীপ তৈরি করেছেন। জেল সুপার চান্দ্রেয়ী হাইত জানিয়েছেন, “আবাসিকরা অনুরোধ করেছিলেন, ছোট হলেও পুজোর ব্যবস্থা হোক। তাই আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আয়োজন করেছি। চাকরির জীবনের প্রথম পোস্টিংতেই এমন আয়োজনের অংশ হওয়া সত্যিই আনন্দের।”
মহিলা বন্দিদের জন্য সরকারিভাবে নতুন শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। মূল পুরোহিত কারারক্ষী বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, আর চারজন ব্রতী সহ পুজোর সমস্ত রীতি পালিত হয়েছে। ১০৮টি প্রদীপ বন্দিরা নিজেরাই তৈরি করেছেন। ঢাকের তালে তারা বোল তুলছেন। সপ্তমীতে নবপত্রিকা, পূজা—সবই নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
অষ্টমীর পূজার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু। সন্ধিপুজো পঞ্জিকা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে, পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হবে ভাগাভাগি করে। দশমীর দিন অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—নাচ, গান, আবৃত্তি। মহিলা বন্দিরা অংশ নেবেন সিঁদুর খেলায়। এই আয়োজন কারাগারের জীবনে আনন্দের এক নতুন অধ্যায় রচনা করল।


