রাজপথ কাঁপিয়েছিল যে তরুণ মুখগুলো, ব্যালট বাক্সের সামনে এসে যেন থমকে গেল তাদের ঝড়। বাংলাদেশের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশের পর স্পষ্ট—আন্দোলনের আবেগ আর ভোটের অঙ্ক এক জিনিস নয়।
২৯৯ আসনের মধ্যে ঘোষিত ফল অনুযায়ী ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে কার্যত একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। আর বহু চর্চিত ছাত্রনেতাদের দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) থেমে গেছে মাত্র ৬ আসনে।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে ৮ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গেছেন। একসময় রাজপথে যাঁর বক্তব্যে উত্তেজনা ছড়াত, ভোটের লড়াইয়ে সেই সমর্থন ধরা পড়ল না। ঢাকায় এনসিপির শীর্ষ নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারিও ঢাকা-৮ আসনে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের কাছে।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটও পাননি, ফলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে জামানত। আলোচিত তরুণ মুখ তাসনিম জারা—যিনি বিদেশের চিকিৎসক পেশা ছেড়ে দেশে ফিরে রাজনীতিতে নামেন—ঢাকা-৯ আসনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়েও জয়ের মুখ দেখেননি।
তবে সম্পূর্ণ শূন্য নয় এনসিপি। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জয় পেয়েছেন, যা প্রতীকী গুরুত্ব রাখে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের আবেগ ভোটযন্ত্রে রূপান্তর করতে গেলে প্রয়োজন সংগঠন, বুথস্তরের কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি। সেই জায়গায় বহু দশকের অভিজ্ঞ দলগুলির সামনে নবগঠিত এনসিপি স্পষ্টতই পিছিয়ে। রাজপথের স্লোগান যে সবসময় ব্যালটে অনুবাদ হয় না—এই নির্বাচন যেন সেই বাস্তবতাই আবার মনে করিয়ে দিল।
রাজপথের বিপ্লব থেকে ব্যালটের ধাক্কা: বাংলাদেশ ভোটে মুখ থুবড়ে ছাত্রদের এনসিপি


