বাংলাদেশে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ ভোট? দিল্লির কূটনৈতিক বার্তা ঘিরে নতুন প্রশ্ন

Spread the love

বাংলাদেশের নির্বাচন শেষ হতেই বিতর্কের ঝড়। সকাল ৭টা ৩০ থেকে বিকেল ৪টা ৩০—ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ বলেই প্রশাসনের দাবি। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু এই সংখ্যাই কি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ গণতন্ত্রের প্রমাণ? প্রশ্ন উঠছে দেশ-বিদেশে।

ভোট মিটতেই দিল্লির সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানালেন, ভারত “অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের” পক্ষেই রয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান ফলাফলের দিকে নজর রাখার কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি সরাসরি সমর্থন নয়, আবার প্রত্যাখ্যানও নয়—বরং পরিস্থিতি বুঝে চলার বার্তা। অর্থাৎ দিল্লি অপেক্ষা করছে চূড়ান্ত ফল ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে।

এদিকে তীব্র আক্রমণে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, এই নির্বাচন “প্রহসন ছাড়া কিছু নয়”। আওয়ামি লিগকে অংশ নিতে না দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস একটি “অবৈধ ও বেআইনি নির্বাচন” আয়োজন করেছেন বলেই অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

হাসিনার বক্তব্য, ভোটের আগের রাত থেকেই শুরু হয় কেন্দ্র দখল, গুলি, টাকা ছড়ানো, ব্যালটে জাল স্ট্যাম্পিং। ভোটের দিন সকাল থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম—রাজধানী ঢাকাতেও নাকি কেন্দ্র ছিল কার্যত ফাঁকা।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন বাতিলের দাবি তুলেছেন হাসিনা। পাশাপাশি ইউনুসের পদত্যাগ, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং আওয়ামি লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ভোট শেষ হলেও বিতর্কের ভোট এখনও চলছে। ফলাফল ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলবে তো? নাকি ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়েই শুরু হবে নতুন রাজনৈতিক লড়াই?


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *