আদরের শিঙাড়া, প্রিয় জিলিপি—পেটের সঙ্গে আবেগও যে জড়িয়ে আছে, তা হয়তো বোঝে না দিল্লির সরকার! রাস্তার ধারের দোকানে বিক্রি হওয়া তেলভাজা খাবার নিয়ে কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের সতর্কতা প্রকাশ্যে আসতেই চড়েছে পারদ। বলা হয়েছে, এইসব ভাজাভুজির তেলে রয়েছে ক্ষতিকারক ট্রান্স ফ্যাট, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক। রাজ্যগুলিকে ‘সতর্ক’ হওয়ার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। তবে বাংলায় সেই বার্তা কার্যত উপেক্ষিত।
তৃণমূলের সাফ বার্তা—এটা বাংলার সংস্কৃতি, এটা খাদ্য নয় শুধু, আবেগ। মুখে রাগ আর কথায় বিদ্রুপ ছুঁড়ে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘এগুলো ফতোয়া নয়, ফাজলামো। বাংলা শিঙাড়া খাবে, জিলিপিও খাবে। কেন্দ্র কে ঠিক করে দেবে আমরা কী খাব, কী খাওয়াব?’’
তিনি আরও বলেন, এই নির্দেশিকা নিছক ‘অভিভাবকতাসুলভ’ শাসানি। “পাঞ্জাবি পরা অফিসাররা দিল্লিতে বসে বুঝবে না, সকালে ঝাল শিঙাড়া আর বিকেলে গরম জিলিপির গুরুত্ব কী!”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনও নীরব নয়। নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত, কেন্দ্রের এই ধরনের হস্তক্ষেপকে অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে করছে রাজ্য। একাংশ বলছে, ভোটের মুখে বাঙালির থালায় নজর দিয়ে লাভ হবে না বিজেপির।
তবে বিজেপি পাল্টা বলেছে, ‘‘কেউ শিঙাড়া খেতে মানা করছে না, শুধু বলেছে স্বাস্থ্যকর হোক।’’ কিন্তু ততক্ষণে জল গড়িয়ে গেছে অনেকদূর। রাজ্যের চায়ের কাপ থেকে সংসদ অবধি এখন শিঙাড়ার গন্ধ।
এখন প্রশ্ন একটাই—রাজনীতি কি শিঙাড়ার খোলে ঢুকে পড়ল? নাকি দিল্লি বনাম বাংলা লড়াইয়ে আরও এক নতুন ‘তেলেভাজা’ অধ্যায়ের সূচনা হল?


