লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির আর্থিক শক্তির ছবি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত হিসাবেই। কমিশনের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ভোটকে সামনে রেখে বিজেপির নির্বাচনী খরচ রীতিমতো রেকর্ড ছুঁয়েছে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে দলের ভোট-ব্যয় বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।
তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে নির্বাচন ও প্রচারে বিজেপি যেখানে খরচ করেছিল ১,৩৫২ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সেই অঙ্ক লাফিয়ে পৌঁছেছে ৩,৩৫৬ কোটিতে। লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করেই এই ব্যয়ের বড় অংশ হয়েছে বলে কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের খরচ সেই তুলনায় অনেকটাই কম। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে নির্বাচন ও প্রচার বাবদ কংগ্রেস ব্যয় করেছে ৬১৯.৬৭ কোটি টাকা। লোকসভা ভোটের বছরে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাদের মোট নির্বাচনী খরচ দাঁড়িয়েছে ৮৯৬.২২ কোটি টাকা—বিজেপির ধারেকাছেও নয়।
শুধু লোকসভা নির্বাচন নয়, ওই অর্থবর্ষে একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনও হয়েছিল। সব মিলিয়ে বিজেপির মোট নির্বাচনী ব্যয় পৌঁছেছে ৩,৭৭৪.৫৮ কোটি টাকায়। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন ও প্রচারের পেছনেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ২,২৫৭ কোটি টাকা, যা দলের সামগ্রিক খরচের বড় অংশ।
ব্যয়ের পাশাপাশি আয়ের দিকেও নজর কেড়েছে শাসক দল। স্বেচ্ছানুদান, দলের চাঁদা ও ব্যাঙ্কের সুদ মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিজেপির মোট আয় হয়েছে ৬,৭৬৯.১৪ কোটি টাকা। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভোটের ময়দানে খরচ যত বেড়েছে, ততই শক্তিশালী হয়েছে দলের আর্থিক ভিত।
এই বিপুল অঙ্কের লেনদেন নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে—ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে কি অর্থই ক্রমশ হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় অস্ত্র?


