পুরনো ‘কৃষক সেতু’র পাশেই এবার তৈরি হবে অত্যাধুনিক তিন লেনের শিল্পসেতু। বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে বরাদ্দ করল ৩৪৭.১১ কোটি টাকা। পূর্ব বর্ধমানের গুরুত্বপূর্ণ পোলেমপুর এলাকায় তৈরি হতে চলেছে এই নয়া সেতু, যা দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৯৭৪ সালে নির্মিত কৃষক সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই জীর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ভারী যানবাহন—সবারই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় এই সেতুর উপর দিয়ে। বহু বছর ধরেই নতুন সেতুর দাবি উঠছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমান সফরে এসে ঘোষণা করেন, কৃষক সেতুর পাশে নতুন একটি সেতু তৈরি করা হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী শুরু হয় জমি চিহ্নিতকরণ ও নকশা তৈরির কাজ। রাজ্যের তরফে প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দও দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে কেন্দ্রের কাছে অর্থ সাহায্যের আবেদন জানায় রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক থেকে জানা গিয়েছে, মোট ৪০১.২৪ কোটি টাকার প্রকল্পে ৩৪৭.১১ কোটি টাকার সাহায্য অনুমোদিত হয়েছে। যদিও শর্ত রয়েছে—আগামী চার মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন না পেলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে যেতে পারে।
সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৪০ মিটার এবং এটি তিন লেন বিশিষ্ট হবে। অত্যাধুনিক কেবল-সাসপেন্ডেড প্রযুক্তিতে তৈরি হবে সেতুটি। শুধু ডামোদর নদীর উপর সেতু নয়, পাশেই ইডেন খালের উপরেও তৈরি হবে আরও একটি তিন লেনের ছোট সেতু, যার দৈর্ঘ্য হবে ৮০ মিটার। ইতিমধ্যেই পরিবেশ ছাড়পত্র, বনভূমি ছাড়পত্র-সহ যাবতীয় প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ জোর কদমে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
যে সংস্থা এই কাজ পাবে, তাকে আগামী ৭৩০ দিনের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। অর্থাৎ সময় মতো কাজ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই পূর্ব বর্ধমানবাসীর জন্য খুলে যাবে এক নতুন যাত্রাপথের দুয়ার। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।


