দিল্লি ও তার আশেপাশের এলাকা থেকে সব পথকুকুরকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—হঠাৎ কেন? রাস্তা তো তাদের ঘর, তাদের পৃথিবী। সেখানে তারা জন্মেছে, বেড়ে উঠেছে, বন্ধুত্ব গড়েছে মানুষের সঙ্গে। তাদের এই পরিচিত আশ্রয় কেড়ে নেওয়া কি সত্যিই যত্ন, নাকি বর্বরতা?
বাংলা কিন্তু দেখিয়ে দিয়েছে—যত্ন নেওয়া মানে উচ্ছেদ নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথকুকুরদের জন্য নিয়েছেন স্টেরিলাইজেশন, চিকিৎসা, খাবারের ব্যবস্থা। এমনকি সরকারি স্কুলের শিশুরাও ‘মিড ডে মিল’-এর খাবার ভাগ করে দেয় এই প্রাণীদের সঙ্গে। রাস্তা থেকে সরানো নয়—সেখানেই তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা বাংলার নীতি।
১৯৬০ সালের Prevention of Cruelty to Animals Act আজও অপরিবর্তিত। সংসদে এর সংস্কারের দাবি তোলা হয়েছে বহুবার। কিন্তু দিল্লির সিদ্ধান্ত প্রমাণ করছে—আইনের বদল যতটা দরকার, ততটাই দরকার মানসিকতার বদল। কারণ প্রতিটি ভ্যান যখন একটি কুকুরকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তখন সেটা কেবল একটি প্রাণীকে সরানো নয়—একটি ঘর ভেঙে দেওয়া, একটি জীবনকে তার চেনা বন্ধন থেকে ছিঁড়ে ফেলা।
ইতিহাস সাক্ষী—বাংলা সবসময় পথ দেখিয়েছে। আজ দিল্লিরও সেই পথ নেওয়ার সময় এসেছে। যত্ন মানে উচ্ছেদ নয়। যত দ্রুত সম্ভব এই নিষ্ঠুর পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এখন গোটা বিশ্বের চোখ দিল্লির দিকে—রাজধানী কি যত্নের ভাষা শিখবে, নাকি নিষ্ঠুরতার পাঠই পড়বে?


