ভারতের মাটিতে, নিজের মাতৃভাষায় কথা বলাও আজ কি সন্দেহের কারণ? বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে চিহ্নিত করল দিল্লি পুলিশ। আর সেই চিঠিই এখন রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছে। বঙ্গ ভবনে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু বাংলাদেশি সন্দেহভাজনকে আটক করার পর পাওয়া নথিগুলি বাংলা ভাষায় লেখা, তাই অনুবাদকের প্রয়োজন। আর সেখানেই ‘বাংলা’ নয়, বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশি ভাষা’।
এই চরম ভাষাগত অপমানের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন,
“যে ভাষায় ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় মন্ত্র রচিত হয়েছে, সেই ভাষাকে ‘বাংলাদেশি’ বলার সাহস দেখায় কারা? এটি সরাসরি সংবিধানের অপমান, দেশের অপমান।”
তাঁর সাফ অভিযোগ — এই চিঠির মাধ্যমে শুধু ভাষা নয়, একটি জাতির আত্মপরিচয়কেই অপমান করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের এই অবস্থান, আদতে কেন্দ্রের বাংলা-বিরোধী মানসিকতার নগ্ন প্রকাশ বলেই মনে করছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেস এই চিঠি প্রকাশ করে জানিয়ে দিয়েছে, এটা শুধু দিল্লি পুলিশের ভুল নয় — এটা একটা চিন্তাভাবনার বহিঃপ্রকাশ, যেখানে বাংলা মানেই ‘বিদেশি’, বাংলা ভাষা মানেই ‘বাংলাদেশ’। এই ভাষাগত বঞ্চনা, সন্দেহ আর অপমানের বিরুদ্ধে নতুন করে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
২৭ জুলাই থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ-মিছিল, পথসভা, ধর্না কর্মসূচি। আর এবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র করতে চলেছে তৃণমূল।
রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্রের ভাষাকে যেদিন ‘বাংলাদেশি’ বলা হয় — সেইদিন শুধু বাংলা নয়, ভারতবর্ষও অপমানিত হয়।


