বিজেপির টিকিটে সাংসদ হয়ে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেছিলেন বলিউড তারকা ধর্মেন্দ্র। রাজস্থানের বিকানেরে ভোটে দাঁড়িয়ে তাঁর জনপ্রিয়তাই ছিল বড় শক্তি। প্রচারের সময় রাজ্য জুড়ে মানুষের ভিড় দেখেই বোঝা গিয়েছিল—চলচ্চিত্রের ‘হি-ম্যান’কে দেখতে ভোটারদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। সেই আবেগই তাঁকে জেতায়। কিন্তু লোকসভায় পৌঁছে খুব বেশি দিন ভাল লাগেনি তাঁর। সংসদের নিয়মিত কাজ, অধিবেশনের উপস্থিতি, এলাকার দায়িত্ব—সিনেমার ব্যস্ততার সঙ্গে কোনও কিছুই মিলছিল না। বাড়ছিল সমালোচনাও। ভোটে জেতা সত্ত্বেও লোকসভায় কম উপস্থিতির জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কটাক্ষ চলছিল একের পর এক।
ধর্মেন্দ্র পরে নিজেই স্বীকার করেন, রাজনীতির জীবনে তিনি মানিয়ে নিতে পারেননি। বলিউডের আরামদায়ক পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল এই দুনিয়া। মানুষকে সময় দেওয়া, কাজের ধারাবাহিকতা রাখা, রাজনৈতিক সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর মনে হচ্ছিল, এটি তাঁর পথ নয়। রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল, যা তাঁকে বেশ আঘাত করেছিল।
শেষ পর্যন্ত মাত্র পাঁচ বছর পরই সিদ্ধান্ত নেন—আর নয়। রাজনীতিতে ফিরবেন না কোনও দিনই। বলিউডই হবে তাঁর একমাত্র ঠিকানা। পরবর্তীতে স্ত্রী হেমা মালিনী রাজনীতিতে এলেও ধর্মেন্দ্র নিজের নেওয়া সেই প্রতিজ্ঞা ভাঙেননি। বহু বছর পরে তিনি নিজেই বলেন, রাজনীতি তাঁকে আবেগগত ভাবে ক্লান্ত করে দিয়েছিল। তাই অভিনয়কেই বেছে নেওয়াই ছিল তাঁর জন্য সবচেয়ে স্বস্তির রাস্তা।


