সোশ্যাল মিডিয়ায় বডি-শেমিং ও কটূক্তির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিলেন প্রখ্যাত ওড়িশি নৃত্যশিল্পী এবং প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলি। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর নাচের অনুষ্ঠান ঘিরে একটি ফেসবুক পেজে অপমানজনক ভাষা, কুরুচিকর মন্তব্য এবং শরীর নিয়ে ট্রোলিং শুরু হলে আর চুপ থাকেননি তিনি। সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান, সঙ্গে জমা দেন পোস্ট ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট।
তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল। অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু সমালোচনা নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ছবি ব্যবহার করে অপমানজনক শব্দ, ব্যঙ্গ এবং যুক্তিহীন সমালোচনা করা হয়েছে। একজন শিল্পীর প্রতি এমন আচরণ অনৈতিক বলেই মনে করছেন অনেকেই।
ডোনা দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যচর্চা এবং ওড়িশি নাচের প্রচারে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজ করে আসছেন। তাই এই ঘটনা তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত অসম্মান নয়, বরং শিল্প এবং নারীকে অপমান করার সমান। তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি আঘাত পেয়েছেন, তবে ভেঙে পড়েননি। বরং আইনি পথে এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সমাজকে দেখিয়ে দিতে চান— ট্রোলিং কখনও “স্বাভাবিক”, “মজা” বা “ফান” নয়, এটি স্পষ্টভাবে হয়রানি।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়াতেও বদলে গেছে সুর। অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে লিখেছেন— শিল্পীর শরীর নয়, তাঁর শিল্পই মূল্যবান। বয়স, সৌন্দর্য বা শরীর কোনও শিল্পীর যোগ্যতা বা বিচার হতে পারে না।
এখন নজর তদন্তের দিকে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা গেলে এটি ভবিষ্যতে অনলাইন অপমান ও বডি-শেমিংয়ের বিরুদ্ধে বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ডোনার পদক্ষেপ প্রমাণ করল— সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্নে নীরব থাকার সময় শেষ।


