বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি এলন মাস্ক। প্রযুক্তি জগতের বিপ্লবী, বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু, আর আজকাল ব্যক্তিজীবনের গল্পেও তিনি সমান চর্চিত। কিন্তু তাঁর জীবনের এক অধ্যায় এতদিন অজানাই ছিল—ভারতের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত এবং আবেগের সম্পর্ক। সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে নিজেই সেই কথা প্রকাশ করেন মাস্ক।
সেখানে মাস্ক জানান, তাঁর সঙ্গী শিভন জিলিস অর্ধেক ভারতীয়। আর সেই যোগের প্রতিফলন রয়েছে তাঁদের সন্তানের নামেও। তিনি জানান, তাঁর এক ছেলের নাম ‘Shekhar’, যা রাখা হয়েছে ভারতের মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে কিংবদন্তি নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের নাম অনুসারে। মাস্ক বলেন— “My son’s middle name is Shekhar, in honour of Subrahmanyan Chandrasekhar.” তাঁর কণ্ঠে বিজ্ঞানীর প্রতি শ্রদ্ধা, আর ভারতের প্রতি টান স্পষ্ট।
চন্দ্রশেখর ছিলেন জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যাঁর গবেষণা আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞানের পথ বদলে দেয়। মহাবিশ্বে নক্ষত্রের মৃত্যু ও কৃষ্ণগহ্বরের রহস্য বুঝতে “Chandrasekhar Limit” আজও এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। সেই বিজ্ঞানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিজ সন্তানের নাম তাঁর নামে রাখা—এ ঘটনা এলন মাস্ককে আরও আলোচনায় এনে দিয়েছে।
পডকাস্টে শিভন জিলিস সম্পর্কেও মুখ খোলেন তিনি। জানান, শিভন কানাডায় বড় হয়েছেন। জন্মের পরই তাঁকে দত্তক পরিবারে বড় করা হয়। তাঁর জন্মদাতা বাবা ছিলেন একজন ভারতীয়, যিনি পড়াশোনা করতে বিদেশে গিয়েছিলেন। শিভনের সেই অজানা শিকড়ই মাস্কের পরিবারে ভারতীয় ছোঁয়া এনে দিয়েছে। যদিও মাস্ক বলেন— “I don’t want to go into too much detail, but yes — she is half Indian.”
আজ পর্যন্ত চার মহিলার গর্ভে জন্ম নিয়েছে মাস্কের সন্তানরা। মোট সন্তান সংখ্যা এখন ১৪—যদিও অনেকে দাবি করেন সংখ্যাটা আরও বেশি। নানা বিতর্কের মাঝেও সন্তান জন্মদানের বিষয়ে তাঁর মত স্পষ্ট—“Humanity needs more smart people.”
পডকাস্টে ভারতের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মাস্ক আরও বলেন, আমেরিকার প্রযুক্তি বিশ্বে ভারতীয়দের অবদান অপরিসীম এবং সিলিকন ভ্যালির উন্নতির পিছনে ভারতীয় মেধার বড় ভূমিকা রয়েছে। তাঁর কথায়— “India has contributed enormously to America, especially in science, space and AI.”
এলন মাস্কের ব্যক্তিগত জীবনের এই স্বীকারোক্তি যেন তাঁর সঙ্গে ভারতের যোগকে নতুন মাত্রা দিল। এখন প্রশ্ন উঠছে—এই আবেগপূর্ণ সম্পর্ক কি ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে টেসলার আগমনকেও ত্বরান্বিত করবে?
বিশ্ব অপেক্ষা করছে সেই উত্তরের জন্য।


