কুম্ভের চেয়েও সুচারু গঙ্গাসাগরের আয়োজন, বাবুঘাটে প্রশংসায় মুখর ভিনরাজ্যের পুণ্যার্থীরা

Spread the love

দেশের দুই বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ— কুম্ভ ও গঙ্গাসাগর। জনসমাগমের নিরিখে তুলনা অবধারিত। আর সেই তুলনাতেই এবার বাবুঘাটের ট্রানজিট ক্যাম্প ঘুরে গঙ্গাসাগর মেলার ব্যবস্থাপনাকে বেশি কার্যকর বলে মত প্রকাশ করছেন একাধিক ভিনরাজ্যের পুণ্যার্থী।

গঙ্গাসাগর যাত্রার মূল প্রবেশদ্বার বাবুঘাটে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের ভিড়। এই বিপুল জনসমাগম সামলাতে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানীয় জল, অস্থায়ী শৌচালয়, চিকিৎসা সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের সেই ব্যবস্থাপনাই নজর কাড়ছে উত্তর ও মধ্য ভারতের পুণ্যার্থীদের।

উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা প্রবীণ পুণ্যার্থী রঘুরাম জানান, বড় ধর্মীয় সমাবেশে সাধারণ মানুষের সমস্যাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর অভিজ্ঞতায়, কুম্ভে বহুক্ষেত্রে পরিষেবা ভেঙে পড়ে। কিন্তু গঙ্গাসাগরে ট্রানজিট স্তরেই যে প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে, তাতে যাত্রাপথে ভোগান্তি অনেকটাই কমছে।

একই সুর ছত্তিশগড়ের পুণ্যার্থীদের গলাতেও। তাঁদের বক্তব্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৌচালয়ের মতো মৌলিক পরিষেবাই বড় মেলাগুলিতে সবচেয়ে দুর্বল জায়গা। বাবুঘাটে নিয়মিত সাফাই ও জল সরবরাহ থাকায় সেই সমস্যায় পড়তে হয়নি।

ইতিমধ্যেই বাবুঘাট অঞ্চল কার্যত বহুরাজ্যের মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা পুণ্যার্থীদের আনাগোনায় এখানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী বাজার ও ধর্মীয় পরিসর। বিনামূল্যের ভোজন, সাধু-সন্তদের উপস্থিতি ও ধর্মীয় আচার মিলিয়ে মেলা শুরু হওয়ার আগেই উৎসবের আবহ স্পষ্ট।

সংক্রান্তির দিন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে ভিড়। প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ— এই ব্যবস্থাপনাকে শেষ দিন পর্যন্ত একইভাবে ধরে রাখা। তবে মাঠের অভিজ্ঞতা বলছে, অন্তত প্রস্তুতির পর্যায়ে গঙ্গাসাগর এবার বড় ধর্মীয় সমাবেশ পরিচালনার একটি কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *