অগ্নিকন্যার কলকাতায় আগুন ঝরা অ্যাকশনের পরের দিনই, গঙ্গাসাগরে আগুনে ছাই প্রশাসনিক তাঁবু থেকে আরো অনেক তাঁবু।

গঙ্গাসাগর
Spread the love

নিজস্ব সংবাদদাতা, গঙ্গাসাগর:গঙ্গাসাগর মেলা শুরুর মুখে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। শুক্রবার ভোররাতে সাগরমেলার ২ নম্বর স্নানঘাট সংলগ্ন এলাকায় আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে গেল একাধিক অস্থায়ী ছাউনি। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ালেও এখনো পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রথম একটি অস্থায়ী ছাউনিতে আগুন লাগে।

গঙ্গাসাগর
গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গন

মুহুর্তের মধ্যেই তা পাশের ছাউনিগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। হোগলা পাতা, বাঁশ ও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ছাউনিগুলি অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়। একের পর এক ছাউনি গ্রাস করে নেয় আগুনের লেলিহান শিখা।
ক্ষতিগ্রস্ত ছাউনিগুলির মধ্যে রয়েছে পুলিশ প্রশাসনের ক্যাম্প, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের শিবির, সংবাদমাধ্যমের অস্থায়ী বসতি এবং এনজিও বজরং পরিষদের একাধিক ক্যাম্প। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ছাউনিগুলি পুণ্যার্থীদের জন্য নয়। প্রতি বছর গঙ্গাসাগর মেলায় প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মী, সংবাদমাধ্যম এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের থাকার জন্য এই অস্থায়ী ছাউনিগুলি তৈরি করা হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনীর দুটি ইঞ্জিন এবং পাঁচটি ফায়ার ফাইটিং বাইক। প্রায় আধ ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছান গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার পুলিশ, সাগরের বিডিও কানাইয়াকুমার রায় সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
দমকল সূত্রে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মেলা উদ্বোধনের পরই এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয় গঙ্গাসাগর মেলায়। সেই মেলার ঠিক আগে এমন ঘটনা প্রশাসনের গাফিলতিকেই সামনে এনে দিল বলে মনে করছেন অনেকেই।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গাসাগরে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর চারলেনের সেতুর শিলান্যাস করেছেন। বিপুল উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি মেলার নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো রক্ষায় প্রশাসন কতটা সতর্ক, এই অগ্নিকাণ্ড সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করে তুলল।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *