গঙ্গাসাগরকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে রাজ্যের উদ্যোগ, কেন্দ্রের নীরবতায় প্রশ্ন তুললেন মমতা

Spread the love

কয়েক দশক আগেও গঙ্গাসাগর মেলা ছিল মূলত রাজ্যকেন্দ্রিক এক তীর্থযাত্রা। সময়ের সঙ্গে সেই ছবিটাই বদলে গেছে। এখন এই মেলা শুধুই পুণ্যস্নানের আয়োজন নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ধর্মীয় সংস্কৃতির অন্যতম বড় সমাবেশ। লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি, আধুনিক পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির জেরে গঙ্গাসাগর আজ বিশ্বমানচিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেছে।

এই পরিবর্তনের কথাই মঙ্গলবার তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গঙ্গাসাগর মেলাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের উপর আর্থিক বোঝা কমাতে প্রথমেই তুলে দেওয়া হয় তীর্থ কর। তাঁর মতে, পুণ্য অর্জনের পথে কোনও কর বা প্রতিবন্ধকতা থাকা উচিত নয়।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজন এখন পরিকল্পিত ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার উপর দাঁড়িয়ে। যাতায়াত থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, জল, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই একাধিক স্তরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদীপথে চলাচল স্বচ্ছ রাখতে ড্রেজিং, জরুরি পরিস্থিতির জন্য হেলিকপ্টার পরিষেবা এবং বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ফলে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে মেলায় অংশ নিতে পারছেন।

তবে এই সাফল্যের মাঝেও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে ছাড়েননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কুম্ভ মেলার ক্ষেত্রে কেন্দ্র যে গুরুত্ব ও আর্থিক সহায়তা দেয়, গঙ্গাসাগরের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছনোর পরেও কেন্দ্রের সহযোগিতা না পাওয়া দুঃখজনক বলেই মনে করেন তিনি। এই বৈষম্য একদিন দূর হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *