১১ হাজার ইউটিউব চ্যানেলে ঝাঁপ: চিন, রাশিয়াকে কাঠগড়ায় গুগল

Spread the love

গ্লোবাল ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রোপাগান্ডার রাশ টানতে বড় পদক্ষেপ নিল গুগল। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে, এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে, ইউটিউব থেকে বন্ধ করে দেওয়া হল প্রায় ১১ হাজার চ্যানেল। গুগলের ‘থ্রেট অ্যানালিসিস গ্রুপ’ এর অধীনে তদন্ত চালিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংস্থার নিজস্ব ব্লগ এবং সিএনবিসি-র এক্সক্লুসিভ রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

জানা গিয়েছে, এই চ্যানেলগুলোর একটা বড় অংশ চিন ও রাশিয়ার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতে পরিচালিত হচ্ছিল। চিনের হয়ে পরিচালিত চ্যানেলগুলো মূলত ইংরেজি ও মান্দারিন ভাষায় শি জিনপিংয়ের প্রশংসা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ নীতির সমালোচনা করত। অন্যদিকে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ চ্যানেলগুলোর কাজ ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিমী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা, পাশাপাশি রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গিকে জাস্টিফাই করা।

তবে শুধু চিন বা রাশিয়া নয়, প্রোপাগান্ডার অভিযোগ উঠেছে ইরান, আজারবাইজান, ইজরায়েল, তুরস্ক, রোমানিয়া এবং ঘানার মতো দেশগুলির বিরুদ্ধেও। রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশানা করা, ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা এবং অভ্যন্তরীণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করাই ছিল এইসব চ্যানেলের উদ্দেশ্য। গুগলের তরফে জানানো হয়েছে, এদের মধ্যে অনেক চ্যানেলের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগসূত্র ছিল স্পষ্ট।

শুধু ইউটিউব চ্যানেল নয়, গুগল ব্লক করেছে একাধিক বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট এবং ব্লগও। এমনকি বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও অনলাইন ডোমেনকে গুগল নিউজে না দেখানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যাতে মিথ্যা প্রচার বা বিভ্রান্তিকর খবর গুগলের নিউজ ফিডে ঢুকতে না পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মে মাসেই গুগল বন্ধ করেছিল ২০টি ইউটিউব চ্যানেল, ৪টি অ্যাডস অ্যাকাউন্ট এবং একটি ব্লগ।

এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউব তাদের নীতিতেও বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ইউটিউবার পুরনো ভিডিও পুনরায় আপলোড করে সেই ভিডিও থেকে আর আয় করতে পারবেন না। অর্থাৎ এক ভিডিও থেকে বহুবার রোজগারের রাস্তা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ইউটিউব বর্তমানে সারা বিশ্বে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বহু মানুষের উপার্জনের প্রধান ভিত্তিও। সেই জনপ্রিয়তা ও শক্তিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে চাইছে অনেক রাষ্ট্র ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী। গুগলের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে, তথ্যযুদ্ধের যুগে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও আর নিরপেক্ষ দর্শক হয়ে থাকতে চায় না—প্রয়োজনে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *