শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ইনিংস কি তবে শেষের পথে? বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অন্তরালেই বিদায় নিতে চলেছেন? এমনই জল্পনা উসকে দিলেন তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।
আমেরিকা থেকে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনাপুত্র কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন—শেখ হাসিনার আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জয়ের কথায়, “আমার মায়ের বয়স হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তাঁর শেষ টার্ম ছিল। তিনি অবসর নিতে চেয়েছিলেন।”
সঞ্চালকের সরাসরি প্রশ্ন ছিল—এটাকে কি ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়? জবাবে কোনও রাখঢাক না রেখেই জয় বলেন, “সম্ভবত তাই।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। দিন কয়েক আগেই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ভয় নয়—নিরীহ মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেই দেশ ছেড়েছিলেন। একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছিলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আওয়ামি লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলেই দেশে ফিরতে প্রস্তুত তিনি।
হাসিনার সেই বক্তব্যে যেখানে প্রত্যাবর্তনের দৃঢ়তা ছিল, সেখানে জয়ের কথায় শোনা গেল সম্পূর্ণ উলটো সুর। আমেরিকায় বসেই তিনি কার্যত বুঝিয়ে দিলেন—মা আর কোনও পরিস্থিতিতেই সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন না।
তবে শেখ হাসিনা না ফিরলেও আওয়ামি লিগ যে রাজনীতির ময়দান ছাড়ছে না, সে বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী জয়। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের ৪০–৫০ শতাংশ ভোট আছে। ১৭ কোটি মানুষের দেশে ৬–৭ কোটি ভোটার আওয়ামি লিগের। তারা হঠাৎ করে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করবে না।”
কিন্তু হাসিনাহীন আওয়ামি লিগ কি আদৌ সম্ভব? জয়ের সাফ কথা, “এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো দল। ৭০ বছর হয়ে গিয়েছে। মাকে নিয়ে হোক বা মাকে ছাড়া—দল চলবে। কেউ চিরকাল থাকে না।”
তাহলে কি শেখ হাসিনার বিকল্প নেতা তৈরি হচ্ছে? ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে বিএনপির হাল ধরা তারেক রহমানের মতোই কি আগামী দিনে আওয়ামি লিগের দায়িত্ব নেবেন জয় নিজে? সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত সময়ের গর্ভেই রইল।


