বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘বিদেশে থাকা’ শুধু ভৌগোলিক দূরত্ব নয়, এটি ক্ষমতার রাজনীতির এক অন্য অধ্যায়। সেই অধ্যায়ই আবার সামনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারেক রহমানকে ঘিরে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে উসকে দিল রাজনৈতিক আশ্রয় ও দায়বদ্ধতার পুরনো বিতর্ক।
শেখ হাসিনার বক্তব্যে স্পষ্ট—রাজনৈতিক আশ্রয় কোনও সৌজন্য নয়, এটি সাময়িক সুরক্ষা মাত্র। দেশের রাজনীতি দেশের মাটিতেই হওয়ার কথা। তাঁর ইঙ্গিত, বিদেশে বসে বিবৃতি আর নির্দেশনা দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে যায় না।
এই বক্তব্য ঘিরে আলোচনায় ফিরেছে ইতিহাসও। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। তবে ক্ষমতার লড়াইয়ে তিনি ফিরেছিলেন দেশে, আদালত, নির্বাচন ও রাজপথ—সব পথ পেরিয়েই। সেই অভিজ্ঞতাই আজ তাঁর বক্তব্যকে আলাদা মাত্রা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে, তারেক রহমানের বিদেশে থাকা নিয়ে বিএনপির অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মামলার ভয়েই তিনি আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু শাসকদলের মতে, এটি আইনের মুখোমুখি না হওয়ার কৌশল।
এই টানাপোড়েনে প্রশ্ন উঠছে—বিদেশে বসে রাজনীতি করলে কি দেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়? নাকি এতে সংকট দীর্ঘায়িত হয়? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ নির্বাসন সমস্যার সমাধান আনে না, বরং দ্বন্দ্বকে জমাট করে।
তারেক প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার বক্তব্য তাই নিছক ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা। আশ্রয় রাষ্ট্র দিতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক বৈধতা আসে কেবল জনগণের কাছ থেকেই। সেই মুখোমুখি হওয়া যত দেরি হবে, রাজনীতির উত্তাপ ততই বাড়বে—এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।


