জাল পে স্লিপ ও ভুয়ো অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট ব্যবহার করে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক থেকে লক্ষাধিক টাকার ব্যক্তিগত ঋণ তোলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন প্রতারণা চক্রের মূল অভিযুক্ত। মঙ্গলবার বর্ধমানের খণ্ডঘোষ এলাকা থেকে আলাউদ্দিন শাহ নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধৃতের বয়স ৩৪ বছর। বাড়ি বাঁকুড়ার পাত্রসায়েরে। তদন্তকারীদের দাবি, আলাউদ্দিন আগে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের ডিরেক্ট সেলিং এজেন্টের অধীনে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করতেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তিনি ব্যাঙ্কের ভিতরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা নিয়ে একটি সুসংগঠিত ঋণ প্রতারণা চক্র চালাতেন।
অভিযোগ, সরকারি দপ্তরের কর্মী পরিচয় দিয়ে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার জন্য জাল নথি তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতেন আলাউদ্দিন। পে স্লিপ ও অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট ভুয়ো করে ঋণ মঞ্জুর করানোর পাশাপাশি, সেই অর্থের একটি অংশও তিনি ভাগ হিসেবে নিতেন বলে পুলিশের দাবি। এই প্রতারণা চক্রের মাধ্যমে মোট ৬২ লক্ষ টাকা ঋণ তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এর আগে এই মামলায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের গ্রেপ্তারের পর আলাউদ্দিনের নামে এফআইআর দায়ের হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন, তবে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আদালতের নির্দেশের পরই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
উল্লেখ্য, এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে ছয় জন সেচ, স্বাস্থ্য ও বনদপ্তরের কর্মী পরিচয় দিয়ে ব্যক্তিগত ঋণ নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ যাচাইয়ে ধরা পড়ে, জমা দেওয়া নথিগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই আকাশ ধীবর, রাণা বাল্মীকি ও সৌমিত্র রায় নামে তিন অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত রয়েছেন। এবার মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে বলেই মনে করছে পুলিশ।
জাল নথিতে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে ৬২ লক্ষ টাকার ঋণ প্রতারণা, বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার মূলচক্রী আলাউদ্দিন শাহ


