রঙের উৎসব হোলির দিনেই আকাশে দেখা যাবে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ, মঙ্গলবার সারা বিশ্বের সঙ্গে ভারতেও দৃশ্যমান হবে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ। উৎসবের আবহে এমন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার মিলন স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে আকাশপ্রেমীদের মধ্যে।
চন্দ্রগ্রহণ ঘটে যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে চাঁদের উপর নিজের ছায়া ফেলে। পূর্ণগ্রহণের সময় চাঁদ সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর গাঢ় ছায়া বা আম্ব্রার মধ্যে প্রবেশ করে। তখন চাঁদ অদৃশ্য হয়ে যায় না, বরং লালচে আভায় জ্বলজ্বল করে ওঠে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে সূর্যের আলো বেঁকে এসে চাঁদের গায়ে পড়ার ফলেই এই রক্তিম আভা তৈরি হয়, যাকে অনেকেই ‘ব্লাড মুন’ বলে থাকেন। এই দৃশ্যই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তোলে।
ভারতে এই গ্রহণের সময়সূচি বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে। বিকেল ৩টা ২৪ মিনিটে উপচ্ছায়া গ্রহণ শুরু হবে এবং ৪টা ২৮ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শুরু হবে। পূর্ণগ্রহণ শুরু হবে সন্ধ্যা ৫টা ৩২ মিনিটে, সর্বোচ্চ গ্রহণের সময় ৬টা ১৩ মিনিট। পূর্ণগ্রহণ শেষ হবে ৬টা ৫৩ মিনিটে এবং আংশিক গ্রহণ শেষ হবে রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে। উপচ্ছায়া গ্রহণ সম্পূর্ণ শেষ হবে রাত ৯টা ২ মিনিটে। দেশের বহু জায়গায় চাঁদ ওঠার সময়ই গ্রহণ চলবে, ফলে অনেকে সরাসরি গ্রহণের শেষাংশ দেখতে পাবেন।
প্রথা অনুযায়ী গ্রহণের আগে ‘সুতক’ পালনের রীতি রয়েছে। এই ক্ষেত্রে সুতক শুরু হবে সকাল ৬টা ২৪ মিনিটে এবং গ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শেষ হবে রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ঘটনা এবং এর সঙ্গে অশুভ কোনও বিষয় জড়িত নয়।
উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি—অসম, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়—এই গ্রহণ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখতে পাবে, কারণ সেখানে চাঁদ তুলনামূলক আগে ওঠে। পূর্ব, মধ্য ও উত্তর ভারতের মানুষও গ্রহণের উল্লেখযোগ্য অংশ উপভোগ করতে পারবেন। পশ্চিম ভারতে চাঁদ ওঠার সময় পূর্ণগ্রহণ প্রায় শুরু হয়ে যাবে, ফলে সেখানেও মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী হওয়া যাবে।
লুনার ইক্লিপস দেখার জন্য কোনও বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই নিরাপদে দেখা যায় এই দৃশ্য। তবে দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তন আরও স্পষ্ট বোঝা যায়। পরিষ্কার আকাশ আর খোলা দিগন্ত থাকলেই যথেষ্ট।
রঙের উচ্ছ্বাসের দিন শেষে যখন সন্ধ্যার আকাশে ধীরে ধীরে লালচে হয়ে উঠবে পূর্ণ চাঁদ, তখন যেন প্রকৃতিও হোলির রঙে রাঙিয়ে দেবে নিজেকে। বিজ্ঞান আর উৎসবের এই অপূর্ব মিলন ৩ মার্চ ২০২৬-কে স্মরণীয় করে রাখবে আকাশপ্রেমীদের কাছে।


