উপকূলরক্ষী বাহিনীর অভিযানে সাফল্য! পাচারের আগে উদ্ধার টন টন সুপারি! প্রায় আড়াই টন (৫২বস্তা) সুপারি-সহ একটি ট্রলারকে আটক করল ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরের বুকে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর বড়সড় অভিযান। বকখালি থেকে মাত্র ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে লুথিয়ান দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় এবং বি লক্ষ্মীনারায়ণ নামে ভারতীয় ট্রলার থেকে প্রায় আড়াই টন বেআইনি সুপারি বাজেয়াপ্ত করল ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। ট্রলারটি আটক করা সম্ভব হলেও, রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অন্য একটি ট্রলারে করে চম্পট দিয়েছে পাচারকারীরা।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত গভীর হওয়ার পর লুথিয়ান দ্বীপের কাছে সন্দেহজনকভাবে এফ বি লক্ষীনারায়ণ নামের একটি ট্রলারকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন টহলরত জওয়ানরা। কোস্ট গার্ডের হোভারক্রাফট এগিয়ে যেতেই ট্রলার থেকে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। শুরু হয় মাঝসমুদ্রে রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া। ধাওয়া করার সময় দেখা যায়, পাচারকারীরা আটক হওয়া ট্রলার ছেড়ে দিয়ে অন্য একটি দ্রুতগামী ট্রলারে চড়ে গভীর সমুদ্রের দিকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ‘এফবি লক্ষ্মীনারায়ণ’ নামের ভারতীয় ট্রলারটিকে অটক করে ফ্রেজারগঞ্জ ঘাঁটির কোস্ট গার্ড সদস্যরা। সেটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় আড়াই টন (২৫০০ কেজি) সুপারি উদ্ধার করা হয়েছে। রাত ১২টা নাগাদ ট্রলার এবং সুপারি বোঝাই বস্তাগুলি ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে নিয়ে আসা হয়। আটক হওয়া ট্রলার এবং প্রায় ৫২টি সুপারির বস্তা ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর ফ্রেজারগঞ্জ ঘাটির অফিসাররা ।পাচার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ সুপারির বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আটক হওয়া ট্রলারটি ভারতীয় হলেও, সেটিতে করে সুপারি পাচারের নেপথ্যে কোনো আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে কি না, তা তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। সুত্রের খবর পাচারকারীরা পালানোর জন্য অন্য একটি ট্রলার মজুত রেখেছিল, তা গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলছে। যদিও এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পুলিশ ট্রলারটির মালিকের খোঁজ শুরু করেছে এবং পলাতক দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।


