বামফ্রন্ট ও আইএসএফের জোটের খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য। ঠিক সেই সময়েই জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ছুঁড়ে দিলেন বড় বার্তা। তাঁর সাফ ঘোষণা—বামফ্রন্ট নয়, তিনি জোট চান শুধু সিপিএম ও আইএসএফের সঙ্গে।
হুমায়ুনের দাবি, তিনি ইতিমধ্যেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে বার্তা পাঠিয়েছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নতুন সমীকরণ গড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলিকে নিয়ে কোনও জোটে তিনি রাজি নন। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ দশকের পুরনো বামফ্রন্ট কাঠামো থেকে সিপিএমকে বেরিয়ে আসারই আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এটি কি কেবল চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি সত্যিই বাম রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত? অতীতে বাবরি মসজিদের ইস্যুতে হুমায়ুনের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তাঁর সঙ্গে বৈঠক করায় অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল বাম নেতৃত্বকেও। দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দিয়েছিল। ফলে এবার তাঁর নতুন প্রস্তাব ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে কৌতূহল।
এদিকে দীর্ঘ জল্পনার পর আইএসএফের সঙ্গে বামফ্রন্টের জোট প্রায় নিশ্চিত। যদিও আসন সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই হুমায়ুনের বার্তা রাজনৈতিক অঙ্ক আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি জানিয়েছেন, ৭ মার্চ পর্যন্ত সেলিমের উত্তরের অপেক্ষা করবেন। ১৯৭৭ সাল থেকে একসঙ্গে পথচলা বামফ্রন্টে কি তবে সত্যিই ভাঙনের সুর? নাকি ভোটের আগে কৌশলী চাপের রাজনীতি? এখন নজর সিপিএমের সিদ্ধান্তের দিকে।
বামফ্রন্টে ভাঙনের ইঙ্গিত? সিপিএমকে আলাদা পথে হাঁটার ডাক হুমায়ুন কবীরের


