বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বড় কূটনৈতিক বার্তা দিল ভারত। মহম্মদ ইউনুস–এর অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন বিএনপি। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর বাংলাদেশে গম রপ্তানির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত। ১৪ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার যুক্তিতে ২০২২ সালের ১৩ মে বাংলাদেশে গম রপ্তানি বন্ধ করেছিল ভারত। সেই সিদ্ধান্তের জেরে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক সৌজন্য এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক দিনেশ পোদ্দার জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে আমদানি করা গমের দাম ভারতের তুলনায় কিছুটা কম। ফলে আপাতত ভারত থেকে বড় আকারে গম আমদানির সম্ভাবনা সীমিত। তবে নতুন মরশুমে ভারতে গম উঠতে শুরু করলে দাম কমতে পারে, তখন ভারতের বাজার থেকে আমদানি বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং বাংলাদেশের বাজারেও তুলনামূলক কম দামে গম সরবরাহ সম্ভব হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটসঙ্গীদের ৩টি আসন মিলিয়ে তাদের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২। ফলে সরকার গঠনের পথ একপ্রকার পরিষ্কার। আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের তরফে উপস্থিত থাকবেন ওম বিড়লা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি।
দুই দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এলেও অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই যে উভয় দেশের অগ্রাধিকার, গম রপ্তানি নিয়ে ভারতের এই সিদ্ধান্তে সেই বার্তাই স্পষ্ট বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বাংলাদেশে সরকার বদল, গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলল ভারত—নতুন বার্তা দিল দিল্লি


