কাকদ্বীপে কালী ক্ষতিগ্রস্ত, রাজনীতির মঞ্চে বিজেপির প্রতিবাদ — সুকান্তবাবুর ‘এস আই আর’ মন্ত্রে গরম রাজনীতি

Spread the love

কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা — দেবী কালী এবার নেমেছেন রাজনীতির কালীকছায়ায়! প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার কাকদ্বীপে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল ও সভা ছিল একেবারে উৎসবের আমেজে ভরপুর। সকাল থেকেই বাজারে বিজেপি কর্মীদের ব্যস্ততা—পতাকা, ফ্লেক্স, ব্যানার, ঢাক–সব কিছুতেই যেন ভোট-পূর্ব উচ্ছ্বাসের গন্ধ। শহর জুড়ে মনে হচ্ছিল, এ যেন প্রতিবাদ নয়, গেরুয়া শক্তির এক মহা শো।

বিকেল ৪টে নাগাদ বাসন্তী ময়দান থেকে মিছিল শুরু হয়। কর্মী–সমর্থকদের স্লোগানে কাকদ্বীপের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে গেরুয়া ঢেউ। রাস্তায় ভিড় দেখে কেউ কেউ বলছিলেন, “কালীপুজো নয়, এটা বুঝি সুকান্ত পুজো!”

প্রায় ৫টা নাগাদ মিছিল এসে পৌঁছয় বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মঞ্চে উঠেই তিনি তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “এস আই আর হচ্ছে, হবে, কেউ রুখতে পারবে না!” উপস্থিত জনতার মধ্যে চাঞ্চল্য—এস আই আর মানে কী? কেউ বললেন “সাহস, ইচ্ছাশক্তি, রক্তচাপ”—রাজনৈতিক রসিকদের ভাষায় এটাই এখন কাকদ্বীপের নতুন ধাঁধা!না

তৃণমূলের স্থানীয় বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা এবং সংসদ বাপী হালদারকে তিনি ‘চোর’ বলে কটাক্ষ করেন। দাবি করেন, “২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে, এটা দেবী কালীর আশীর্বাদ।” সমর্থকরা তাতে উচ্ছ্বসিত, কেউ চিৎকার করে উঠলেন—“জয় মা কালী, জয় শ্রী রাম—দুটোই চলবে!”

এদিকে পুলিশেরও ছিল বাড়তি প্রস্তুতি। গোটা কাকদ্বীপ বাজারে নজরদারি চলছিল, যেন এই রাজনৈতিক উত্তাপ আচমকা ‘অগ্নিপরীক্ষা’য় না পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে, প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্তের ঘটনায় মানুষের ক্ষোভের জায়গাটা যেন পরিণত হল রাজনৈতিক মঞ্চে। দেবী কালী হয়তো চুপ করে তাকিয়ে আছেন—নিজের প্রতিমা ভাঙার কষ্টে নয়, বরং তাঁর নাম ধরে কে বেশি ভোট টানছে, সেই প্রতিযোগিতা দেখে।

শেষে বলা যায়, কাকদ্বীপের রবিবারের বিকেলটা হয়ে উঠেছিল এক অভিনব মঞ্চ—যেখানে প্রতিবাদ, আবেগ, আর রাজনীতি একসঙ্গে মিশে গিয়েছিল। দেবী হয়তো ভাবছেন, “আমার নামে এত হট্টগোল! অন্তত কেউ যদি সত্যি আমায় পুজো করত!”


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *