‘ঈশ্বর আমাকে বাঁচালেন’ — অভিষেকের বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে তৃপ্ত কল্যাণ

Spread the love

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠক ছিল মূলত সাংসদ ও দলীয় নেতৃত্বকে দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বেশিরভাগ সাংসদ। কিন্তু গরহাজির ছিলেন কল্যাণ, যিনি পরে বিষয়টি নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বাড়িয়ে দেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঈশ্বর আমাকে বাঁচিয়ে দিলেন।” তিনি আরও জানান, এই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি নিয়েছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, “আমি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। উনি আমাকে এই বৈঠকে না যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। তাই আমি বেঁচে গেলাম।”

এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কল্যাণের এই মন্তব্য নিছক কৌতুক নয় — বরং তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অবস্থান ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর অসন্তোষের প্রতিফলন।

দলীয় সূত্রের মতে, সম্প্রতি অভিষেকের নেতৃত্বে সংগঠনে শৃঙ্খলা রক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বারবার সাংসদ, বিধায়ক ও নেতাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি — ‘যারা কাজ করবেন না, তাঁদের দলে জায়গা নেই।’ এই পরিস্থিতিতে কল্যাণের মতো একজন প্রবীণ নেতা এমন মন্তব্য করায় জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে — তিনি কি তবে অভিষেকের কর্তৃত্ব মেনে নিতে পারছেন না?

এর আগেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বহুদিন ধরেই তিনি দলের ‘একনায়কতান্ত্রিক’ ভাবনার বিরুদ্ধে কথা বলে এসেছেন, যদিও নাম না করেই। অনেকে মনে করছেন, দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার আর চাপা থাকছে না।

এখন প্রশ্ন উঠছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে কী প্রভাব ফেলবে? তিনি কি তৃণমূলেই থাকবেন, না কি দূরত্ব আরও বাড়বে? দল এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তৃণমূলের অন্দরমহলের একটা বড় সংকেত।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *