ভারতের আইকনিক অভিনেতা, কোটি মানুষের প্রিয় মুখ কমল হাসান— তিনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, অগণিত সম্মান। কিন্তু জীবনের এত সাফল্য পেরিয়েও একটা অভাব তার মনের ভিতর জমে ছিল বহু বছর ধরে— মায়ের অসম্পূর্ণ ইচ্ছে।
এবার, ৭১ বছর বয়সে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে কমল হাসান যখন সরকারি শপথ নিলেন, তখন শুধু রাজনীতিবিদ বা তারকা নন— তিনি ছিলেন একজন ছেলে। এমন এক ছেলে, যে নিজের সারা জীবনের অর্জনের থেকেও আজকের দিনটিকে বড় মনে করেছেন।
গলা কাঁপছিল, চোখ ভিজে উঠছিল।
আর ভাষায় ছিল হৃদয়ের ব্যথা—
“আমি স্কুল ড্রপআউট। মা সবসময় চাইতেন আমি যেন সরকারি চাকরি করি… আজ সেটা হলো। আজ খুব ইচ্ছে করছিল তাকে ফোন করি। কিন্তু… তিনি নেই।”
কথার শেষে থেমে গিয়েছিলেন। যেন স্মৃতির ভারে বুক ভেঙে আসছিল।
২০১৮ সালে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন ‘মাক্কল নিধি মাইয়ম’ গঠন করে। দীর্ঘ লড়াই, পরিশ্রম এবং মানুষের প্রতি সমর্পণই তাকে আজ সংসদের উচ্চ আসনে পৌঁছে দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে আবেগের ঢেউ—
“কমল হাসান আজ শুধু রাজ্যসভার সাংসদ নন, তিনি এক সন্তানের প্রতীক, যে দেরিতে হলেও মায়ের শেষ না হওয়া স্বপ্ন পূরণ করেছে।”
এ যেন এক বার্তা—
জীবন যতই কঠিন হোক, স্বপ্ন ফুরোয় না।
মা চলে গেলেও তাঁর ইচ্ছেগুলো বেঁচে থাকে ছেলের হৃদয়ে।
৭১ বছর বয়সে কমল হাসানের অর্জন তাই শুধু রাজনৈতিক পদ নয়—
এটা এক সন্তানের শেষ করে দেওয়া শূন্যতা,
একটা অসম্পূর্ণ স্বপ্নের পূর্ণতা,
আর এক মায়ের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধার নীরব প্রণাম।


