ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই কে এল রাহুলকে নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কখনও ওপেনার, কখনও মিডল অর্ডার, আবার কখনও উইকেটকিপার—দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে ভেঙে তৈরি করেছেন তিনি। তবু সেই রাহুলই এখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে। কেরিয়ারের সেরা সময়ের কাছাকাছি দাঁড়িয়েও অবসর প্রসঙ্গ সামনে আনায় অস্বস্তিতে ভারতীয় ক্রিকেটমহল।
টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হারালেও টেস্ট ও ওয়ানডেতে এখনও নিয়মিত রাহুল। ওয়ানডেতে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে। প্রয়োজনে নেতৃত্বও দিয়েছেন। কিন্তু এত দায়িত্ব সামলেও নিজেকে দলের অপরিহার্য অংশ বলে মানতে নারাজ কর্নাটকের এই ব্যাটার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাহুল স্পষ্ট করেছেন, তিনি নিজেকে কখনওই সুপারস্টার ভাবেন না—এবং সেই কারণেই অবসর নিয়ে ভাবাটা তাঁর কাছে কঠিন নয়।
রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেট ব্যক্তিনির্ভর নয়। একজন খেলোয়াড় চলে গেলে খেলাটা থেমে থাকে না। তাঁর কাছে এখন ক্রিকেটের বাইরের জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রথম সন্তানের জন্মের পর অগ্রাধিকারের তালিকা বদলে গিয়েছে। পরিবারকেই তিনি এখন সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে দেখছেন।
২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও শুরুতে চোট-আঘাত ও ফর্মের অনিশ্চয়তায় বারবার পিছিয়ে পড়তে হয়েছে রাহুলকে। তবে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দলের ভরসার ব্যাটার হিসেবে। আইপিএলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স রয়েছে। তবু অন্য তারকাদের মতো দীর্ঘ কেরিয়ারের পরিকল্পনা তাঁর নেই—এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছেন তিনি।
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছেই—নিজেকে গুরুত্ব না দেওয়া এই ক্রিকেটার কি সত্যিই কেরিয়ারের মাঝপথে সরে দাঁড়াবেন? নাকি এটি শুধুই মানসিক প্রস্তুতির বার্তা? আপাতত রাহুলের কথাবার্তা ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে অবসর বিতর্ক উসকে দিল।
“কে এল রাহুলের অবসরের ইঙ্গিত: সেরা সময়ে ভারতীয় দলের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ কি ছাড়বেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট?”


