ব্যাঙ্ক প্রতারণায় জড়িত ব্যবসায়ী হরিশ বাঘলা গ্রেপ্তার, ইডির জালে ১৯০ কোটি টাকার তছরুপ কাণ্ড

Spread the love

ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন কলকাতার ব্যবসায়ী হরিশ বাঘলা। মঙ্গলবার গভীর রাতে যশোর রোডের একটি অভিজাত আবাসনে হানা দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইডি তদন্ত শুরু করে।

ইডি সূত্রে খবর, হরিশ বাঘলা অন্তত ৩০টি সংস্থা দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১৯০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু এই সংস্থাগুলির অধিকাংশই ভুয়ো বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ঋণ হিসেবে পাওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যবসায়িক কাজে না লাগিয়ে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। যার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলির কাছে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়।

এই প্রতারণা কাণ্ডে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ইডির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্তে নামে। গত কয়েক মাস ধরে ব্যবসায়ীর আর্থিক লেনদেন, সংস্থাগুলির নথি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হয়। তাতেই প্রতারণার চক্র ফাঁস হয়ে যায়।

তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ধৃত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ধৃতকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ইডি। তাঁর কাছ থেকে আরও তথ্য বের করে আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষত, এই প্রতারণার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা জানার জন্য তদন্ত এগোচ্ছে।

শুধু তাই নয়, ধৃতের বিভিন্ন সংস্থার নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে ইডি। প্রাথমিক অনুমান, এই প্রতারণা চক্রে আরও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও দালাল জড়িত থাকতে পারে। আগামী দিনে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

এই ঘটনায় কলকাতার ব্যবসায়ী মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ব্যাঙ্ক প্রতারণার মতো বড়সড় কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোয় প্রশ্ন উঠেছে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরও। ইডির দাবি, তদন্তে আরও বড় তথ্য উঠে আসতে পারে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *