Bশুক্রবার দুপুরের ব্যস্ত সময়ে আচমকা কেঁপে উঠল কলকাতা ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। কয়েক সেকেন্ডের কম্পনেই বহুতল থেকে রাস্তায় নেমে আসেন বাসিন্দারা। অফিসপাড়া, বাজার, আবাসন—সব জায়গাতেই ছড়ায় আতঙ্ক। যদিও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবুও বারবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় শহরবাসীর মনে প্রশ্ন ঘনাচ্ছে—কলকাতা কি ক্রমশ বেশি ঝুঁকির দিকে এগোচ্ছে?
এই কম্পনের উৎস ছিল বাংলাদেশ সীমান্তের সাতক্ষীরা-খুলনা অঞ্চল। সেখানে উৎপন্ন তরঙ্গই এসে আঘাত হানে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কলকাতা সরাসরি উপকেন্দ্র না হলেও তার ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে বাইরের শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিঘাত এখানে টের পাওয়া স্বাভাবিক।
সমীক্ষা বলছে, সিসমিক জোন মানচিত্রে কলকাতা ৩ ও ৪ নম্বর ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের সংযোগস্থলে রয়েছে। ২০১৫ সালে Indian Institute of Technology Kharagpur শহরের সম্ভাব্য ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গবেষণা করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মাঝারি মাত্রার কম্পনেও পুরনো ও অপরিকল্পিত নির্মাণ বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, ভারতীয় প্লেট ধীরে ধীরে উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে চাপ সৃষ্টি করছে। সেই টেকটোনিক চাপের প্রভাব উত্তরবঙ্গ বা উত্তর-পূর্ব ভারতে বেশি হলেও তার তরঙ্গ দক্ষিণে পৌঁছতে সময় লাগে না। বড় মাত্রার কম্পন হলে কলকাতাও নড়ে উঠতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শহরের ভূপ্রকৃতি। হুগলি নদী অববাহিকার নরম পলিমাটি অনেক সময় কম্পনের শক্তি শোষণ করলেও, অতিরিক্ত জল উত্তোলন ও ঘনবসতিপূর্ণ বহুতল নির্মাণ ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। ভিত মজবুত না হলে বড় মাত্রার ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ স্পষ্ট—ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণ বিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। পুরনো ভবনের কাঠামোগত পরীক্ষা জরুরি। সচেতনতা ও প্রস্তুতিই পারে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ক্ষতি কমাতে। কারণ কম্পন থামলেও প্রশ্নটা রয়ে যায়—পরের ধাক্কা কতটা শক্তিশালী হতে পারে?


